
দরজায় সশব্দে কড়া নাড়ার পর বাইরে থেকে গম্ভীর কণ্ঠ—‘পুলিশ, দরজা খুলুন!’ এরপর ঘরে ঢুকেই হ্যান্ডকাফ আর গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া। গাইবান্ধা জেলায় কোনো নিয়মিত পুলিশি অভিযান নয়, বরং ‘ভুয়া ডিবি পুলিশ’ সেজে সাধারণ ও চিহ্নিত পরিবারগুলোকে নিশানা বানিয়ে ত্রাস ছড়াচ্ছে ১০-১৫ জনের একটি পেশাদার প্রতারক চক্র।
ঘটনার গভীরতা বুঝে খোদ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি পরিচয় যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জের তালুককানুপুর ও দরবস্ত ইউনিয়ন সহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চক্রটির অপতৎপরতা দেখা দিয়েছে । সাধারণত অন্ধকার নামলে তারা দলবদ্ধ হয়ে হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনো এজেন্ট, তথাকথিত হ্যাকার এবং রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বাড়িগুলোকেই এরা সহজ লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। মামলা আর রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে নগদ টাকা, দামি মোবাইল ফোন ও মাদকদ্রব্য। এদের মূল কৌশল—যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা ভয়ে পুলিশের কাছে যাবে না। এই সুযোগেই দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে চক্রটি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকার সাধারণ মানুষকে সজাগ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ পরিচয়ে কেউ এলেই বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কোনো অভিযান পরিচালিত হলে পরিচয়পত্র ও সংশ্লিষ্ট থানার সত্যতা যাচাইয়ের অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।
ওসি আরো জানান, “চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ টিম মাঠে নেমেছে। তবে জনগণকে ফাঁদ থেকে বাঁচাতে সচেতনতাই প্রধান ঢাল।”
ভুয়া পুলিশের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে কোনো অর্থ লেনদেন বা বিতণ্ডায় না জড়িয়ে তাৎক্ষণিক সরকারি নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে ওসি, জেলা ডিবি (গাইবান্ধা): ০১৩২০-১৩২৫৫৮,ওসি গোবিন্দগঞ্জ ০১৩২০-১৩২৪৮০, ওসি সদর ০১৩২০১৩২৩৭৬ , ওসি সাদুল্যাপুর ০১৩২০১৩২৪০২, ওসি সুন্দরগঞ্জ ০১৩২০১৩২৪২৮, ওসি পলাশবাড়ি ০১৩২০১৩২৪৫৪ ওসি ফুলছড়ি ০১৩২০১৩২৫৩২।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট৷ জানানো হযেছে অপরিচিত কারো মুখে ডিবির পরিচয় শুনে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানায় কল দিয়ে অপরাধীকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহায়তা করুন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















