
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধ করে পার পাওয়ার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন মডার্ন ক্লিনিকের বিতর্কিত মালিক মো. নূর আমিন। সরকারি চাকরি ফাঁকি দিয়ে ভুয়া ডাক্তার সেজে ক্লিনিক বাণিজ্য, ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যু ধামাচাপা দেওয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পৌর বিধিমালা লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখলের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে এই কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের এসব ভয়ঙ্কর অপরাধ আড়াল করতে এবং প্রশাসন ও জনমতের চোখকে ফাঁকি দিতে গত ৯ জুলাই ভাড়াটে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে একটি সাজানো ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলন করেন নূর আমিন। তবে এই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বুজরুক বোয়ালিয়া মৌজার (জে এল নং ২৪৪, সাবেক দাগ নং ৮৯, হাল দাগ নং ৬০১) মোট ৭২.২৫ শতক জমির মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন গংদের পৈত্রিক মালিকানা ৪০.৫০ শতক। কিন্তু গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট ও মডার্ন ক্লিনিকের মালিক নূর আমিন কোনো প্রকার সীমানা নির্ধারণ বা পরিমাপ ছাড়াই, সম্পূর্ণ গায়ের জোরে মোয়াজ্জেম হোসেনের বাসাবাড়ি সংলগ্ন উঠানের সাড়ে ৫ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিল্ডিং কোড ও পৌর বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করলে গোবিন্দগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ গত ০৬/০৭/২০২৬ ইং তারিখে (স্মারক নং: গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ২০২৬/১৩৭) একটি জরুরি নোটিশ জারি করে অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও নূর আমিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
নূর আমিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগটি ওঠে গত ২৯ জুন। মডার্ন ক্লিনিকে হরিনাথপুর বিশপুকুর এলাকার জেসমিন নামের এক প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশনের টেবিলে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ও আইনি ঝামেলা এড়াতে নূর আমিন ও তার সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিহতের পরিবারকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে এবং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়।
একজন সরকারি ফার্মাসিস্ট হয়েও নূর আমিন কীভাবে সার্বক্ষণিক প্রাইভেট ক্লিনিক পরিচালনা করেন, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। কর্মস্থলে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে আগামী ১৪ জুলাই গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৯ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে নূর আমিন ধূর্ততার আশ্রয় নিয়ে মাত্র '৪ ফুট' জায়গার বিরোধ দাবি করলেও, সাড়ে ৫ শতক জমি দখল, সশরীরে উপস্থিত থেকে হামলা, ভাঙচুর এবং মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারকে হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর বিষয়গুলো সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান।
এলাকাবাসীর দাবি, এই সংবাদ সম্মেলন ছিল মূলত মূল অপরাধ থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি সরানোর একটি নিকৃষ্টতম আইওয়াশ। পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ি ঝুঁকিতে ফেলে অন্যের জমিতে এই অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ এবং নূর আমিনের কালো আয়ের উৎস খুঁজতে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শান্তিপ্রিয় জনগণ।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.