
সরকারি নালা ও পানি নিষ্কাশনের সেতু (ব্রিজ) লোহার পাত দিয়ে ঝালাই করে বন্ধ করে দেওয়ার এক চরম স্বেচ্ছাচারী ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের দুর্গাপুর মৌজায়। প্রভাবশালী একটি চক্রের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ফলে নষ্ট হয়ে গেছে রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ একর জমিতে আমন চাষ পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী শত শত কৃষকের চোখে এখন অন্ধকার। ফসলের খেত পানির নিচে তলিয়ে থাকায় এবং বীজতলা পচে যাওয়ায় হাজার হাজার মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ভেস্তে যেতে বসেছে। এতে কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক চাষিরা।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর মৌজার (জে এল নং-১৪) প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমিতে প্রতিবছর রেকর্ড পরিমাণ ইরি ও রোপা আমন ধানের আবাদ হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিকভাবেই ওই এলাকার বৃষ্টির পানি একটি নির্দিষ্ট সেতুর নিচ দিয়ে এবং স্লুইসগেট হয়ে ঘাঘট নদীতে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এক অভিনব উপায়ে সেতুটির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি বেসরকারি মাছ ও গবাদিপশুর খামার এবং পশ্চিম পাশে লিজ নেওয়া একটি জমির ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জনস্বার্থকে সম্পূর্ণ বলি দেওয়া হয়েছে। চক্রটি সেতুর পানি চলাচলের মুখে লোহার পাত দিয়ে ঝালাই করে আটকে দিয়েছে। যার ফলে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে আটকে যায় এবং কৃত্রিম বন্যার রূপ নেয়। ইতিমধ্যেই পানির নিচে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকায় রোপা আমনের চারা সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাইদুল ইসলাম, সালেক মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক চাষি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ব্যক্তিস্বার্থের জন্য পুরো এলাকার কৃষকদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। আমরা বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাইনি। জনপ্রতিনিধিদের রহস্যজনক নীরবতা আমাদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করেছে।

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা এখন নিজেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছেন। কৃষকরা সাফ জানিয়েছেন, আজ রোববার গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে তারা লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অবৈধ প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে শুধু কুপতলার কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং জেলায় খাদ্য উৎপাদনেও এর বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.