
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের কুঞ্জনাকাই গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আনিছুর রহমান প্রধান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়েই ফের তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছে। গতকাল রাতে অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় অস্ত্রের শোডাউন ও মহড়া দিয়েছে জামিনপ্রাপ্ত আসামীরা। এতে মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদী ও সাক্ষীদের সপরিবারে হত্যা করার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এজাহারের সূত্রে জানা যায়, নাকাই মৌজার ৮৫০ দাগের জমি দখলকে কেন্দ্র করে গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে আসামীরা লাঠি, লোহার রড, রামদা, হাসুয়া ও মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মারাত্মক আহত হন আনিছুর রহমান প্রধান (৪৪)। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে সকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শাহ আলম প্রধান বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার চিহ্নিত ও এজাহারভুক্ত ৬ আসামী— মাহবুবুর রহমান ওরফে পেলে (৩২), গোলজার রহমান ওরফে মন্টু (৫০), সজিব সরকার (৩৪), সাদেক আলী ওরফে বুদা (৪১), আনিছুর সরকার (৩৩) এবং মোঃ সজিব প্রধান (৩৩) সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

কারামুক্ত হওয়ার পরই গতকাল রাতে এই ৬ আসামীর নেতৃত্বে প্রায় ২০টি মোটরসাইকেলে বিশাল বহর নিয়ে কুঞ্জনাকাই ও নাকাইহাট বাজার এলাকায় মহড়া দেওয়া হয়। তারা প্রকাশ্যে বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে এবং দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মামলার বাদী শাহ আলম প্রধান ও প্রধান সাক্ষীদের বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসামীরা চিৎকার করে হুমকি দিয়ে বলে— "আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেছি, পুলিশ বা আদালত আমাদের কিছুই করতে পারবে না। দ্রুত মামলা তুলে না নিলে আনিছুরের মতো বাদী ও সাক্ষীদেরও লাশ ফেলে দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নিহত আনিছুর রহমানের শোকাহত পরিবার ও মামলার সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিহতের ভাই ও মামলার বাদী শাহ আলম প্রধান ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আমার ছোট ভাইকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হলো। দোকানে ঢুকে নগদ টাকা ও মালামাল লুটপাট করা হলো, বাড়িতে ঢুকে শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার লুট করা হলো। সেই খুনিরা জামিনে বের হয়েই আবার আমাদের খুনের হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন নিজের ভিটেবাড়িতেও নিরাপদে থাকতে পারছি না। যেকোনো মুহূর্তে আসামীরা আবারও আমাদের ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি চিহ্নিত হত্যা মামলার প্রধান আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে এভাবে প্রকাশ্যে ২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন দেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির পূর্বাভাস। দ্রুত এই সন্ত্রাসী আসামীদের জামিন বাতিল করে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং বাদী-সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.