
নদীর পাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা শেষে শরীর জুড়াতে কাটাখালীর পানিতে নেমেছিল পাঁচ কিশোর। কিন্তু নদীগর্ভে তাদের জন্য ওত পেতে ছিল অবৈধ বালু উত্তোলনের সৃষ্টি করা গভীর এক ‘মরণফাঁদ’। গোসলে নেমেই সেই অতল গর্তে তলিয়ে যায় পাঁচজনই। চার বন্ধু কোনোমতে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হয় হাসিব (১৪)। প্রায় আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা শেষে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ।
২৬ আগস্ট দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুরাতন বন্দর স্লুইস গেট সংলগ্ন কাটাখালী নদী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত হাসিব কামারদহ ইউনিয়নের বকচর মধ্যপাড়া গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে। সে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার প্রধানপাড়া খানাবাড়ী এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে ফুটবল খেলা শেষে পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে নদীতে নামে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে সৃষ্ট গভীর খাদের তীব্র স্রোতে পড়ে যায়। হাসিবের পরনে ভারী প্যান্ট থাকায় এবং তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের কারণে সে আর ওপরে ভেসে উঠতে পারেনি।
স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। তবে নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি ইউনিটকে তলব করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পরে মাত্র ২০ মিনিটের তৎপরতায় নদীর তলদেশ থেকে হাসিবের মরদেহ উদ্ধার করেন তারা।
গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, "অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর ওই অংশে বিপজ্জনক গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছিল। পাঁচজন একসঙ্গেই তলিয়ে যায়, তবে বাকিরা উঠতে পারলেও হাসিব ভারী পোশাক ও প্রবল স্রোতের কারণে গভীরে আটকে যায়। ডুবুরি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।"
এদিকে হাসিবের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাটাখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী চক্র। নদীর বুকজুড়ে তৈরি হওয়া এসব কৃত্রিম গর্ত এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসিবের এই নির্মম মৃত্যুর দায় কার—সেই প্রশ্ন তুলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.