
সমাজসেবার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে উত্তরাঞ্চলের কয়েক হাজার বেকার যুবকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও অভিনব প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার রিফায়েতপুর বাদিয়াখালির তথাকথিত এক এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে এই সর্বস্বান্ত করার মহোৎসব ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত আব্দুল লতিফ (লতু শেখ)-এর ছেলে ওমর ফারুক ২০০৮ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর (নিবন্ধন নং- ১২৪৬) এবং ২০১৩ সালে এনজিও ব্যুরোর (নিবন্ধন নং- ২৭৬৮) অনুমোদন নেন। এরপর থেকেই সেবামূলক কাজের অন্তরালে শুরু হয় তার সংঘবদ্ধ প্রতারণা বাণিজ্য। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জামালপুরসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষিত বেকার যুবকদের টার্গেট করে উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখানো হতো। পদভেদে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত নিয়ে অন্তত এক থেকে দেড় হাজার যুবকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা।
প্রতারণার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ২০২৩ সালে এক চরম নাটকীয়তার আশ্রয় নেন ওমর ফারুক। ঢাকা থেকে একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করে বাদিয়াখালি হাই স্কুল মাঠে অবতরণ করান তিনি। হেলিকপ্টার থেকে নামা ভাড়াটে কিছু ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক ‘দাতা সংস্থার প্রতিনিধি’ সাজিয়ে অফিসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ঘটা করে সাধারণ মানুষকে দেখানো হয় যে, সংস্থাটির প্রজেক্ট দেখে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ৮০০ কোটি টাকার একটি চেক অনুদান দিয়েছে এবং শিগগিরই আরও ১ হাজার কোটি টাকার চেক আসবে। এই আকাশকুসুম সাজানো নাটকের ফাঁদে ফেলে চাটুকার চক্রের মাধ্যমে আরও শত শত বেকারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

ভুক্তভোগী কুড়িগ্রামের আলিফ, মফিজুল, শাহীন ইবনে ওয়াহাব, রবিউল হক এবং গাইবান্ধার কুপতলার বিপুল মিয়া, আজিজুর, আমিনুল ইসলাম, বিজয়, বাবু মিয়া, নাজমুল, সোহেলসহ বিভিন্ন জেলার তরুণরা জানান, জামানত নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেওয়া হতো। এরপর কুড়িগ্রাম, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বিলাসবহুল রুম ভাড়া নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রথম দিন অফিস উদ্বোধন করা হতো। কিন্তু উদ্বোধনের মাস পেরোতেই আর কোনো কার্যক্রম থাকত না।

অভিযোগে আরও জানা যায়, এনজিওর আড়ালে চাকরি দেওয়ার নামে ডেকে এনে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আসরও বসানো হতো। মাস শেষে বেতন কিংবা কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত কোনো বাজেট না দেওয়ায় কর্মীরা যখন জামানতের টাকা ফেরত চাইতে যান, তখনই তাদের ওপর নেমে আসে চরম হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন।
ভুক্তভোগীরা এই কুখ্যাত প্রতারক চক্রের হাত থেকে নিজেদের পাওনা টাকা ফেরত পেতে এবং ওমর ফারুকসহ তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.