
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বাজিতনগর গ্রামে জমি সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে এক পরিবারের ওপর দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ গংদের বিরুদ্ধে। দুই মাসের ব্যবধানে মা ও মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হলেও আসামিরা আদালত থেকে জামিন না নিয়ে পুলিশের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শাহানাজ বেগম ও তার পরিবারের ওপর একের পর এক নৃশংস হামলা চালানো হয়। প্রথম দফায় শাহানাজের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে তার মেয়েকেও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। এসব ঘটনায় সাঘাটা থানায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ২৯ জুন (মামলা নং-৩১) এবং ১৫ আগস্ট (মামলা নং-১৩) দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জোড়া মামলার প্রধান আসামি হয়েও রোস্তম আলী আকন্দ কোনো জামিন ছাড়াই বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আসামির সঙ্গে পুলিশের রহস্যজনক সখ্যতার কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না বলে বাদীপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এদিকে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা সম্প্রতি শাহানাজের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট চালায়। তারা বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি, ছাগল, সেচপাম্পের মোটর, টিউবওয়েল এবং বিদ্যুৎ সংযোগের তার পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আরও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। শুধু শারীরিক নির্যাতন ও লুটপাটেই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্তরা; শাহানাজ ও তার ভগ্নিপতি মঞ্জুর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জুয়া খেলার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
জমি বিরোধের বিষয়ে ভুক্তভোগী মঞ্জু জানান, কামারপাড়া মৌজার জেএল নং ১০৩, খতিয়ান নং ১৭ ও দাগ নং ১২২৩-এর ৪৪ শতক জমির মূল সিএস মালিক উমেদ আলী। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডে মোস্তানূর রহমান বুলেট এবং বিআরএস রেকর্ডে মোস্তাফিজার রহমান রকেটের নামে জমিটি ভুলক্রমে রেকর্ডভুক্ত হয়। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উমেদ আলীর ওয়ারিশরা ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সাবেক চেয়ারম্যান রোস্তম আলীসহ ১৩ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র ওই বিতর্কিত রেকর্ডের সুযোগ নিয়ে রকেটের কাছ থেকে দলিল করিয়ে নেয় এবং দখল নিতে পরিবারটির ওপর তাণ্ডব শুরু করে।
অপরদিকে শাহানাজের স্বামী ছানাউল ইসলাম জানান, কামারপাড়া মৌজার ১৩০ খতিয়ানভুক্ত ৭ একর ৪৬ শতক জমির চার আনা অংশের মালিকানা নিয়ে ২০১০ সালে আদালতে মামলা (নং ৬৭/১০) দায়ের হলে তারা ডিক্রি পান। ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে রোস্তম আলী আপিল করে হেরে যান। পরবর্তীতে তার চাচাতো ভাই মোন্তাজ আকন্দ পুনরায় আপিল করলে তা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ছানাউলের দাবি, একের পর এক মামলায় হেরে গিয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে রোস্তম আলী তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মারপিটের ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, আমি সেদিন ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।"
আদালতে বিচারাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, মা-মেয়ের ওপর নৃশংস হামলা ও বাড়িঘর লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.