
টাকার কাছে কি তবে হেরে গেল মানবিকতা ও ন্যায়বিচার? দেনমোহরের অঙ্ক কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রথম স্ত্রীকে তালাক, গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং আদালতের বারান্দায় দুই বছর ঘুরেও বিচার না পাওয়ার এক চরম অমানবিক ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে।
আদালতের প্রতিটি ধার্য তারিখে উপস্থিত থেকেও দেনমোহর তো পানইনি ভুক্তভোগী চম্পা বেগম, উল্টো কোনো কিছু না জানিয়েই খারিজ করে দেওয়া হয়েছে তার মামলা। এমনকি মামলা খারিজের খবরটি বাদী নিজেই জানেন না! কাঠগড়ায় উঠেছে আদালতের অসাধু মুহুরি চক্রের কারসাজি।
ভুক্তভোগী চম্পা গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাড়ারদহ গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে ১০ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৫ বছর বয়সী এক মেয়েকে নিয়ে বৃদ্ধ বাবার জীর্ণ সংসারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট চম্পার বিয়ে হয়। কাবিননামায় দেনমোহর ছিল মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, চম্পাকে তালাক দেওয়ার অন্তত পাঁচ মাস আগেই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তার স্বামী। সেখানে কাবিন ধরা হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। পরবর্তীতে দেনমোহরের দায় এড়াতে এবং বিদেশে পাড়ি জমানোর মাত্র চার দিন আগে চম্পাকে একতরফা তালাক দেওয়া হয়।

চম্পার অভিযোগ, তার সুখের সংসার ধ্বংসের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন তারই আপন বোনজামাই ফুল মিয়া। ফুল মিয়া ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। চম্পার ভাষ্য অনুযায়ী, তালাকের আগে থেকেই ফুল মিয়া তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ফুল মিয়া চম্পাকে সরাসরি বলেছিলেন, “যেকোনো মূল্যে তোর সংসার আমি ভাঙব এবং স্বামীকে আবার বিয়ে দেব।” সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুল মিয়ার যোগসাজশেই পুরো নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
নিজের ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার এবং দেনমোহরের টাকা আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চম্পা। টানা দুই বছর প্রতি তারিখে আদালতে সশরীরে হাজিরা দিয়ে গেছেন। অথচ সম্প্রতি আকস্মিকভাবে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। কেন খারিজ হলো, কোন আদেশের ভিত্তিতে হলো—তার বিন্দুবিসর্গও জানেন না মামলার বাদী। চম্পার সরাসরি অভিযোগ, আদালতের কিছু অসাধু মুহুরি ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র প্রতিপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে মামলাটি ধামাচাপা দিতেই এ কারসাজি করেছে। একজন নিয়মিত হাজিরা দেওয়া বাদীর মামলা কীভাবে তার অজান্তে খারিজ হয়, তা নিয়ে গাইবান্ধার বিচারিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্বামী বিদেশে থাকলেও গত দুই বছর ধরে দুই সন্তানের কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছেন না। উল্টো বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের অসহযোগিতার কারণে সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তি ও সরকারি উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে নিষ্পাপ দুই শিশু।

দেনমোহর ফাঁকি, গোপনে তালাক এবং আদালতের নথি গায়েবের এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানাজানি হতেই ফুঁসে উঠেছে ফুলছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অবিলম্বে মামলার নথিপত্র, আদালতের খারিজ আদেশ এবং বোনজামাই ফুল মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট মুহুরি চক্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখে সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.