
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া ও বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৩টি শক্তিশালী ড্রেজার (শ্যালো) মেশিন এবং বিপুল পরিমাণ পাইপ গুঁড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজার ফেলে পালিয়ে গেছে বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের বিশপুকুর এলাকা এবং গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বোয়ালিয়া পয়েন্টে এই সাঁড়াশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে পরিবেশ ও নদী রক্ষা আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে পলাশের পয়েন্ট এবং রাখালবুরুজ ইউনিয়নের বিশপুকুর এলাকার রুস্তমের পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখিত এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে করতোয়া ও বাঙালি নদীর পয়েন্টে বালু উত্তোলনে সক্রিয় থাকা ৩টি ড্রেজার মেশিন ও সংযোগ পাইপ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে অকেজো করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানের খবর আগে থেকেই টের পেয়ে সিন্ডিকেটের মূল হোতাসহ শ্রমিকরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
অভিযানের সময় জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়েছে। নদী রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ বালু কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.