
উপজেলা সদরের গুনভরি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাজানো কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে, রয়েছে আইসিটি শিক্ষকও। অথচ সেই ল্যাবে বসে খোদ শিক্ষার্থীরাই চিনতে পারছে না কম্পিউটারের ‘মাউস’ কিংবা ‘কিবোর্ড’। ডিজিটাল শিক্ষার এমন করুণ দশার বিপরীতে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসে বাধ্য করা এবং তহবিলের প্রায় ৪৩ লাখ টাকার হিসাব চাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়ে সভাপতির বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফুঁসে উঠে বিদ্যালয় ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

অভিভাবকদের সরাসরি অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, ওয়াশরুমে ধূমপান ও বিদ্যালয়ের আর্থিক অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হককে সরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি চক্র। বুধবার সকালে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে একটি মিছিল বের করানো হয় এবং একপর্যায়ে সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়।
শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির দাবিতে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। অভিভাবকদের সাফ কথা—"সন্তানদের স্কুলে পাঠানো হয় পড়াশোনা শেখাতে, শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতির হাতিয়ার বা মিছিল-হামলার ক্যাডার বানাতে নয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়টির আইসিটি ক্লাস পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান শিক্ষার বেহাল দশা। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারের প্রাথমিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খোদ মাউস, কিবোর্ড, হার্ডওয়্যার কিংবা সফটওয়্যারের মতো প্রাথমিক ধারণাও দিতে পারেনি তারা। অভিভাবকদের অভিযোগ, আইসিটি শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগম নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম কম্পিউটার শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, "সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করা এবং বিদ্যালয়ের তহবিলের প্রায় ৪৩ লাখ টাকার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব চাওয়াটাই আমার অপরাধ হয়েছে। আইসিটির সরঞ্জামেও ব্যাপক গরমিল রয়েছে। এসব অনিয়ম ঢাকতেই প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করিয়েছেন।

অভিভাবকরা জানান, বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর টিফিনের পর স্কুল পালানোর প্রবণতা কমেছিল এবং পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে আসছিল। এতেই স্বার্থে আঘাত লাগে একটি শিক্ষক চক্রের। এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বীকার করেছে, প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষিকার নির্দেশেই তারা সভাপতির বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমান বুলু গা-ঢাকা দিয়েছেন।
খবর পেয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ও ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরাকুল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ইউএনও জানান, শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মিছিল করানো, আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষার মানসহ সার্বিক অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.