
প্রকাশ্য দিবালোকে শহর রক্ষা বাঁধের ওপর পথরোধ করে এক বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ছিনতাই এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত ৫ অক্টোবর দুপুরে গাইবান্ধা মর্ডান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন নৌকাঘাট এলাকায় এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ীর নাম তাজুল ইসলাম (৩৮)। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তাজুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে গাইবান্ধা নতুন ব্রিজের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে তার বালুর পয়েন্টে যাচ্ছিলেন। পথে নৌকাঘাট বাঁধের ওপর পৌঁছামাত্র ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার গতিরোধ করে। গালিগালাজের প্রতিবাদ করতেই লাঠি, লোহার রড ও শাবল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে তারা।
একপর্যায়ে রুহুল আমিন নামের এক হামলাকারী ধারালো রামদা দিয়ে তাজুলের মাথায় কোপ বসানোর চেষ্টা করে। তাজুল মাথা সরিয়ে নিলে কোপটি তার কপালের বাঁ পাশে লাগে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন এবং হাসপাতালে তার কপালে ৯টি সেলাই দিতে হয়। ধারালো অস্ত্রের আরেকটি আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার বাঁ হাতের আঙুলের সংযোগস্থলে আরও ৪টি সেলাই পড়ে। এ ছাড়া সাখাওয়াত হোসেন নামের আরেকজন লোহার রড দিয়ে তাজুলের বাঁ চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে, যার ফলে তার দৃষ্টিশক্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
হামলার একপর্যায়ে রক্তাক্ত তাজুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নুর আলম নুরী নামের এক অভিযুক্ত তার বুকের ওপর চেপে বসে গলা টিপে ধরে। এরপর হামলাকারীরা তার প্যান্টের পকেটে থাকা বালু কেনার নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ক্ষান্ত না হয়ে তারা তাজুলের ‘ইয়মাহা এফজেড’ মোটরসাইকেলটির হেডলাইট, তেলের ট্যাঙ্ক ও বডি পিটিয়ে দুমড়েমুচড়ে ফেলে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
আহত তাজুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাঁধ এলাকা ত্যাগ করে। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতর তাজুল ইসলাম জানান, "আমাকে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়ার জন্যই ওরা বাঁধে ওঁৎ পেতে ছিল।" শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি নিজে থানায় যেতে না পারায় তার জবানবন্দি অনুযায়ী ভাতিজা রওশন আলী গাইবান্ধা থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.