
রোববার সকালে দোহার উপজেলার থানার মোড় মাছবাজার থেকে আইড় মাছটি কিনেছিলেন বটিয়া এলাকার গৃহিণী সুইটি আক্তার। প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের ওই মাছের পেট থেকে উদ্ধার হওয়া লোহা তিনটির ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম।
হঠাৎ মাছের পেটে লোহা পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাজারে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—মাছের ওজন কৃত্রিমভাবে বাড়াতে কেউ পেটে সিসা বা লোহার টুকরো ঢুকিয়ে দিয়েছিল, নাকি রাক্ষুসে স্বভাবের এই মাছটি নিজেই জলের তলা থেকে এগুলো গিলে খেয়েছিল?
হতবাক গৃহিণী সুইটি আক্তার বলেন, ‘ভেবেছিলাম মাছের পেট থেকে বড় বড় ডিম বের হবে। কিন্তু লোহার খণ্ড দেখে আমি তো থ! মাছের পেটে এগুলো কীভাবে এলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ বিক্রেতা আকাশকে থানায় ডেকে পাঠায়। অভিযুক্ত বিক্রেতা আকাশ প্রতারণার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, তিনি বান্দুরা বাজারের নিখিলের আড়ত থেকে মাছটি এনে বিক্রি করেছেন। এর ভেতরে লোহা থাকার বিষয়টি তাঁর জানার কথা নয়। পরে অবশ্য অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য ক্রেতাকে মাছের পুরো দাম ফেরত দেন তিনি এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে বাজার কমিটির জিম্মায় মুক্তি পান।
এদিকে বান্দুরা বাজারের আড়তদার নিখিল দাবি করেন, গত দুই দিন ধরে তিনি রাঙামাটি থেকে আসা আইড় মাছ বিক্রি করছেন। তাঁর ধারণা, আইড় মাছ স্বভাবগতভাবেই একটু রাক্ষুসে ও লোভী হওয়ায় জলের নিচে খাবার ভেবে ভুল করে লোহাগুলো গিলে ফেলতে পারে।
বাজারের নিয়মিত ক্রেতা করিম বেপারী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি। মাছের ওজনে কারসাজি করার জন্য কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজ করেছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।’
প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা নাকি ওজন বাড়ানোর নতুন কোনো অসাধু চক্রের কারসাজি—তা উদ্ঘাটনে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে ঘটনার আকস্মিকতায় আপাতত থানার মোড় বাজারের চায়ের কাপে ঝড় তুলেছে এই ‘লোহাওয়ালা আইড় মাছ’।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আতিকুর রহমান আতিক বাবু, বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়, বিজ্ঞাপন বিভাগ: রওশন সরকার, 01707-480805, সম্পাদকীয় কার্যালয়: হকার্স মার্কেট, ডিবি রোড, গাইবান্ধা। যোগাযোগ: 01713-739236
Copyright © 2025 গণ উত্তরণ. All Rights Reserved.