
ভোরের আলোয় নীল জলরাশির ছন্দ আর ছুটির আমেজ নিমেষেই ঢেকে গেল গাঢ় বিষাদ ও অঙ্গার হওয়া কাঠে। উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতের মেরিন ড্রাইভ ঘেঁষা নান্দনিক কাঠের রিসোর্টটিতে ঢাকা থেকে সপরিবারে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন মো. আশিকুল ইসলাম। কিন্তু শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড সেই অবকাশকে পরিণত করল জীবন্ত এক দুঃস্বপ্নে। দোতলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে আশিকুল কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও চোখের সামনেই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের ছয়জন সদস্য।
পাটোয়ারটেক সৈকতের কাঠের দোতলা রিসোর্টটিতে লাগা ভয়াবহ আগুনে এ পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১০ জন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনো তল্লাশি চলছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিস।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বেলা সোয়া দুইটা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কাঠের কাঠামো হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), বনশ্রী, ঢাকা,মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), বনশ্রী, ঢাকা,লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), খিলগাঁও, ঢাকা,নাফিসতা মীম (২৭), খিলগাঁও, ঢাকা,ফারিহা কবির (৩৩), চুয়াডাঙ্গা,ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) এবং সামিদা (৩২)।
একটি আনন্দের ছুটির সকাল এমন আকস্মিক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়ায় পুরো পর্যটন এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া আর স্বজনহারাদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে ইনানীর বাতাস।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














