সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের ওপর চড়াও বহিষ্কৃত বিডিআর সদস্য আলমগীর: ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মব উসকে দেওয়ার অভিযোগ

 

গাইবান্ধার সাঘাটায় নদীভাঙন কবলিত নিঃস্ব মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও বিডিআর বিদ্রোহে চাকরিচ্যুত সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেনের হামলার মুখে পড়েছেন কর্তব্যরত সাংবাদিকরা। এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা প্রদান, গালিগালাজ, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং ‘ফ্যাসিস্টের দালাল’ আখ্যা দিয়ে উন্মত্ত মব তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​সোমবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সাথালিয়া (মাঝিপাড়া) এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ডানতীর বাঁধে এ ঘটনা ঘটে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা প্রেসক্লাবের একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বাঁধ ভাঙন ও দুর্গত মানুষের বাস্তব চিত্র সংগ্রহ করতে দক্ষিণ সাথালিয়া এলাকায় পৌঁছান। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে দলবল নিয়ে সাংবাদিকদের পথরোধ করেন স্থানীয়ভাবে কথিত সাব-ঠিকাদার ও চিহ্নিত অবৈধ বালু কারবারি আলমগীর হোসেন। কোনো উসকানি ছাড়াই তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং অশালীন ভাষায় আক্রমণ শুরু করেন।

​সাংবাদিকরা এমন মারমুখী আচরণের প্রতিবাদ জানালে আলমগীর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অতীতে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তার বালু সাম্রাজ্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের জের টেনে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক ‘প্রমাণ’ দাখিলের জন্য জবরদস্তিমূলক হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তার রাজনৈতিক ভোলবদল ও দুর্নীতির বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তুললে আলমগীর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি আনছারুজ্জামান রেজুয়ানকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলেন, ‘আপনার নাম রেজোয়ান না? আপনি তো ফ্যাসিস্টের এক নম্বর দালাল।’

​সাংবাদিকরা তাকে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাব দিতে বললে তিনি উত্তর না দিয়ে সরাসরি মারমুখী হয়ে ওঠেন। এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা তার এই বেপরোয়া আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলে আলমগীর আরও হিংস্র হয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং চরম টানাহেঁচড়া করেন।

​ভুক্তভোগী সাংবাদিক আনছারুজ্জামান রেজুয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজের বহু অপকর্ম ও অবৈধ বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট আড়াল করতে আলমগীর হোসেন সুপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয়দের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এটা স্পষ্টতই মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের ওপর বড় ধরনের হামলার একটি চক্রান্ত।”

​এ ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। সাঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের পথরোধ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ফৌজদারি অপরাধ। কোনো দুর্বৃত্ত বা বালু সিন্ডিকেটের হুমকি-ধমকি দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না।” তারা অবিলম্বে এই বহিষ্কৃত বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরিচ্যুত আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু লুটপাটের সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। তার এই অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ইতিপূর্বে স্থানীয় নিরপরাধ মানুষদের একের পর এক অন্তত চারটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় জড়িয়ে চরম হয়রানি করেন তিনি। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে প্রতিটি মামলাই সাজানো ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষের দুর্ভোগের খবর সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন আগ্রাসী হামলায় স্থানীয়দের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জনপ্রিয়

সাংবাদিকদের ওপর চড়াও বহিষ্কৃত বিডিআর সদস্য আলমগীর: ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মব উসকে দেওয়ার অভিযোগ

error: Content is protected !!

সাংবাদিকদের ওপর চড়াও বহিষ্কৃত বিডিআর সদস্য আলমগীর: ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মব উসকে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৭:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

গাইবান্ধার সাঘাটায় নদীভাঙন কবলিত নিঃস্ব মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও বিডিআর বিদ্রোহে চাকরিচ্যুত সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেনের হামলার মুখে পড়েছেন কর্তব্যরত সাংবাদিকরা। এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা প্রদান, গালিগালাজ, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং ‘ফ্যাসিস্টের দালাল’ আখ্যা দিয়ে উন্মত্ত মব তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​সোমবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সাথালিয়া (মাঝিপাড়া) এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ডানতীর বাঁধে এ ঘটনা ঘটে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, সাঘাটা প্রেসক্লাবের একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বাঁধ ভাঙন ও দুর্গত মানুষের বাস্তব চিত্র সংগ্রহ করতে দক্ষিণ সাথালিয়া এলাকায় পৌঁছান। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে দলবল নিয়ে সাংবাদিকদের পথরোধ করেন স্থানীয়ভাবে কথিত সাব-ঠিকাদার ও চিহ্নিত অবৈধ বালু কারবারি আলমগীর হোসেন। কোনো উসকানি ছাড়াই তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং অশালীন ভাষায় আক্রমণ শুরু করেন।

​সাংবাদিকরা এমন মারমুখী আচরণের প্রতিবাদ জানালে আলমগীর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অতীতে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তার বালু সাম্রাজ্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের জের টেনে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক ‘প্রমাণ’ দাখিলের জন্য জবরদস্তিমূলক হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তার রাজনৈতিক ভোলবদল ও দুর্নীতির বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তুললে আলমগীর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি আনছারুজ্জামান রেজুয়ানকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলেন, ‘আপনার নাম রেজোয়ান না? আপনি তো ফ্যাসিস্টের এক নম্বর দালাল।’

​সাংবাদিকরা তাকে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাব দিতে বললে তিনি উত্তর না দিয়ে সরাসরি মারমুখী হয়ে ওঠেন। এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা তার এই বেপরোয়া আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলে আলমগীর আরও হিংস্র হয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং চরম টানাহেঁচড়া করেন।

​ভুক্তভোগী সাংবাদিক আনছারুজ্জামান রেজুয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজের বহু অপকর্ম ও অবৈধ বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট আড়াল করতে আলমগীর হোসেন সুপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয়দের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এটা স্পষ্টতই মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের ওপর বড় ধরনের হামলার একটি চক্রান্ত।”

​এ ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। সাঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের পথরোধ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ফৌজদারি অপরাধ। কোনো দুর্বৃত্ত বা বালু সিন্ডিকেটের হুমকি-ধমকি দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না।” তারা অবিলম্বে এই বহিষ্কৃত বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরিচ্যুত আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু লুটপাটের সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। তার এই অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ইতিপূর্বে স্থানীয় নিরপরাধ মানুষদের একের পর এক অন্তত চারটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় জড়িয়ে চরম হয়রানি করেন তিনি। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে প্রতিটি মামলাই সাজানো ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষের দুর্ভোগের খবর সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন আগ্রাসী হামলায় স্থানীয়দের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।