
সাংবাদিকের আড়ালে ম্যাজিস্ট্রেট সেজে অভিনব চাঁদাবাজি করতে গিয়ে অবশেষে জনতার হাতে ধরা পড়লেন দুই প্রতারক। রংপুরের হরিদেবপুর পানবাজারে সার দোকানে ‘অভিযান ও জরিমানা’র নাটক সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক হন তাঁরা। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
আটককৃতরা হলেন গোলাম মোস্তফা মনি ও কামরুল হক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনি নিজেকে ‘ভোরের আওয়াজ’ পত্রিকার প্রতিনিধি এবং কামরুল ‘একাত্তরের বার্তা’র পরিচয়ে এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি হরিদেবপুর পানবাজারের একটি সারের দোকানে হঠাৎ হাজির হন এই দুজন। নিজেদের যুগপৎ প্রভাবশালী সাংবাদিক ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে দোকানের পণ্যের মান ও লাইসেন্স নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ জরিমানা দাবি করেন এবং তা আদায়ও করে নেন।
তবে তাঁদের আচরণ, অসংলগ্ন কথাবার্তা ও কোনো বৈধ সরকারি নথি দেখাতে না পারায় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরিচয়পত্র যাচাই করতেই ফাঁস হয়ে যায় তাঁদের ভুয়া পরিচয়ের গল্প। মুহূর্তের মধ্যেই স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাঁদের ঘেরাও করে ফেলে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই ভুয়া সাংবাদিককে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সাংবাদিকতা ও প্রশাসনের মর্যাদাপূর্ণ পরিচয়ের আড়ালে এ ধরনের প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকানপাটে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














