রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুদাম থেকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই হাতবদল: ফুলছড়ির চরে সারের ‘কালোবাজারি’ সিন্ডিকেট

কাগজে-কলমে সারের কোনো ঘাটতি নেই, নিয়মিত বসছে মনিটরিং কমিটির বৈঠকও। অথচ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে পা রাখলেই মিলছে ভিন্ন চিত্র। গুদাম থেকে ডিলারের দোকানে যাওয়ার পথেই সার চলে যাচ্ছে অসাধু চক্র ও কালোবাজারিদের হাতে। এমনকি এক উপজেলার সরকারি বরাদ্দ পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্য জেলা-উপজেলায়। ফলে ভরা মৌসুমে চরের হাজার হাজার কৃষককে প্রতি বস্তা সারে গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ।

এরেন্ডাবাড়ী ও ফজলুপুরের মতো দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষকদের লড়াইটা কেবল প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গেই নয়, যোগ হয়েছে কৃত্রিম সার সংকট। এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদেরের ক্ষোভ, “কৃষি অফিসকে বারবার জানিয়েও প্রতিকার মেলেনি। সময়মতো সার না দিলে চরের জমিতে ফসল ফলবে কীভাবে?” স্থানীয় আরেক কৃষক হতাশা প্রকাশ করে জানান, নদীভাঙন আর বাড়তি পরিবহন খরচের পর সারে যদি এভাবে বাড়তি টাকা গচ্চা দিতে হয়, তবে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারদের একটি অংশ গুদাম থেকে সার তুলে সরাসরি নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে না নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে ডিলারের ঘরে ঝুলছে ‘সার নেই’ নোটিশ, আর সেই সারই দ্বিগুণ দামে মিলছে অবৈধ খুচরা দোকানে। মাঠপর্যায়ের কৃষি তদারকির চরম গাফিলতিতেই এই সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে কৃষকদের দাবি।

এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, আব্দুল খালেক মাস্টার জানান সরকার সার পর্যাপ্ত দিলেও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক খালি হাতে ফিরছে। বারবার কৃষি অফিসে অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল মেলে না।

​ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা আবুল খায়ের জানান “কৃষকদের নিয়মিত এই হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদের ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

​তবে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং কোনো ডিলারের অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​সরকারি ভর্তুকির সুফল চরের প্রান্তিক কৃষকের বদলে চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। শুধু সভা-সমাবেশে ‘সংকট নেই’ দাবি না করে দ্রুত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও সরেজমিনে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে চরাঞ্চলে সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জনপ্রিয়

মাদকবিরোধী সংবাদের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ও বাড়িতে হামলার চেষ্টা: থানায় জিডি

error: Content is protected !!

গুদাম থেকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই হাতবদল: ফুলছড়ির চরে সারের ‘কালোবাজারি’ সিন্ডিকেট

প্রকাশের সময়: ০৫:০৮:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কাগজে-কলমে সারের কোনো ঘাটতি নেই, নিয়মিত বসছে মনিটরিং কমিটির বৈঠকও। অথচ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে পা রাখলেই মিলছে ভিন্ন চিত্র। গুদাম থেকে ডিলারের দোকানে যাওয়ার পথেই সার চলে যাচ্ছে অসাধু চক্র ও কালোবাজারিদের হাতে। এমনকি এক উপজেলার সরকারি বরাদ্দ পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্য জেলা-উপজেলায়। ফলে ভরা মৌসুমে চরের হাজার হাজার কৃষককে প্রতি বস্তা সারে গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ।

এরেন্ডাবাড়ী ও ফজলুপুরের মতো দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষকদের লড়াইটা কেবল প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গেই নয়, যোগ হয়েছে কৃত্রিম সার সংকট। এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদেরের ক্ষোভ, “কৃষি অফিসকে বারবার জানিয়েও প্রতিকার মেলেনি। সময়মতো সার না দিলে চরের জমিতে ফসল ফলবে কীভাবে?” স্থানীয় আরেক কৃষক হতাশা প্রকাশ করে জানান, নদীভাঙন আর বাড়তি পরিবহন খরচের পর সারে যদি এভাবে বাড়তি টাকা গচ্চা দিতে হয়, তবে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারদের একটি অংশ গুদাম থেকে সার তুলে সরাসরি নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে না নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে ডিলারের ঘরে ঝুলছে ‘সার নেই’ নোটিশ, আর সেই সারই দ্বিগুণ দামে মিলছে অবৈধ খুচরা দোকানে। মাঠপর্যায়ের কৃষি তদারকির চরম গাফিলতিতেই এই সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে কৃষকদের দাবি।

এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, আব্দুল খালেক মাস্টার জানান সরকার সার পর্যাপ্ত দিলেও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক খালি হাতে ফিরছে। বারবার কৃষি অফিসে অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল মেলে না।

​ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা আবুল খায়ের জানান “কৃষকদের নিয়মিত এই হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদের ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

​তবে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং কোনো ডিলারের অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​সরকারি ভর্তুকির সুফল চরের প্রান্তিক কৃষকের বদলে চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। শুধু সভা-সমাবেশে ‘সংকট নেই’ দাবি না করে দ্রুত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও সরেজমিনে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে চরাঞ্চলে সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।