
সরকারি ক্যালেন্ডারে ধান সংগ্রহের শেষ দিন ৩১ আগস্ট। অথচ তিন সপ্তাহ আগেই গুদামের ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তালা। গাইবান্ধার খাদ্য বিভাগের এমন একতরফা ‘খেয়ালিপনায়’ চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন স্থানীয় বোরো চাষিরা। সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে খোলা বাজারে প্রতি মণে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসানে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়েও এখন ঋণের জালে আটকে দিশাহারা হাজারো কৃষক পরিবার।

জেলা খাদ্য বিভাগ হাত গুটিয়ে বসে সাফাই গাইছে—লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬৩ মেট্রিক টন, সেখানে কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯৬ মেট্রিক টন। জেলার ১১টি গুদামে ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার মেট্রিক টন, আর বর্তমানে মজুত আছে ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। গুদামে জায়গা না থাকার অজুহাত দেখিয়ে গত ৯ আগস্ট থেকেই ধান কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন, যার মধ্যে কৃষকের ঘরে উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার মেট্রিক টন। প্রশ্ন উঠেছে, এই বিশাল উদ্বৃত্তের দায় কার? গুদামের জায়গা না থাকার দায় কেন সাধারণ কৃষককে লোকসান দিয়ে মেটাতে হবে?
সরকারি গুদামে যেখানে প্রতি মণ ধানের নির্ধারিত দর ১ হাজার ৪৪০ টাকা, সেখানে বর্তমান স্থানীয় বাজারে মোটা ধান মিলছে মাত্র ৮৫০ টাকায় এবং চিকন ধান ৯৫০ টাকায়। অর্থাৎ সরকারি মূল্যের চেয়ে মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা কমে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিলারদের হাতে ধান তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।
সদর উপজেলার কাটিহারা গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হকের ক্ষোভ, “হামরা কৃষক মানুষ। পরিবারে কারও চাকরি নাই, ব্যবসাও নাই। ধান বেচে সংসার চলে, দেনা শোধ করি। বাজারে দর নাই, আর সরকারি গুদামও ধান নিচ্ছে না। হামরা যামো কোটে?
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কৃষক আমজাদ আলী সরকারের ঘরে এখনও পড়ে আছে ১২০ মণ উদ্বৃত্ত ধান। তিনি জানান, উৎপাদন খরচ যেখানে আকাশছোঁয়া, সেখানে বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে এক মণেও লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠবে না।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি সাদেকুল ইসলাম খাদ্য বিভাগের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “কৃষকের কোনো বিকল্প আয়ের পথ নেই। তাদের গোলায় এখনও বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত ধান। খাদ্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রার অজুহাতে মুখ ফিরিয়ে নিলে কৃষকরা পথে বসবে।” অবিলম্বে গুদামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে অথবা বিকল্প ব্যবস্থাপনায় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















