শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের ভাগবাঁটোয়ারায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৭:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদকের চালান আর চরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের চরম পরিণতি গড়াল রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে টেঙ্গুর মণ্ডল (৬০) নামের এক বৃদ্ধ সড়কির আঘাতে নিহত হয়েছেন। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হন।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দুর্গম চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই।

​সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন—সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটল মণ্ডলের সঙ্গে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্যের অনুসারী হিসেবে নব্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া আজাহার মেম্বারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। দুই থেকে তিন দিন আগে ভারত সীমান্ত হয়ে আসা মাদক ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজাহার মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েক দফায় বাগ্‌বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো চরাঞ্চল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের সড়কির সরাসরি আঘাতে টেঙ্গুরের পেট মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

​রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, “ভারত থেকে আসা মাদক বা চোরাই পাতার বিড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই-তিন দিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই জেরে আজ ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে, যাতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।”

​দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চরাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।” এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

আ.লীগ নেতা মাহাবুব প্রধান গ্রেফতার, পাঠানো হলো আদালতে

error: Content is protected !!

মাদকের ভাগবাঁটোয়ারায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদকের চালান আর চরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের চরম পরিণতি গড়াল রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে টেঙ্গুর মণ্ডল (৬০) নামের এক বৃদ্ধ সড়কির আঘাতে নিহত হয়েছেন। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হন।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দুর্গম চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই।

​সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন—সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটল মণ্ডলের সঙ্গে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্যের অনুসারী হিসেবে নব্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া আজাহার মেম্বারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। দুই থেকে তিন দিন আগে ভারত সীমান্ত হয়ে আসা মাদক ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজাহার মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েক দফায় বাগ্‌বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো চরাঞ্চল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের সড়কির সরাসরি আঘাতে টেঙ্গুরের পেট মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

​রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, “ভারত থেকে আসা মাদক বা চোরাই পাতার বিড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই-তিন দিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই জেরে আজ ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে, যাতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।”

​দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চরাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।” এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।