রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৌশলী সৌমিকের মৃত্যু: মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জড়ানোর চেষ্টা, ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে উল্টো চিত্র

বিয়ের আগের দিন তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহারিয়া সৌমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শহরের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা নিয়ে তীব্র বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বোনের সংবাদ সম্মেলনের পর মৃতের বাবার একটি অডিও রেকর্ড এবং সরেজমিন তথ্যে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে পড়েছে। উল্টো গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চরম অবহেলা এবং সেখানে দীর্ঘ সময় বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখার বিষয়টিই সামনে আসছে।

​রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা শহরের দেশী ভোজ নামক একটি রেষ্টুরেন্টেে সংবাদ সম্মেলন করে সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, ১৫ অক্টোবর মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সৌমিক ভুল চিকিৎসার শিকার হন এবং সেখানে তাঁকে কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।

​তবে বোনের এই অভিযোগের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়েছে খোদ সৌমিকের বাবা  একটি ফোন রেকর্ডিং। অভিযুক্ত মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. কাইয়ুম এবং সৌমিকের বাবার মধ্যকার কথোপকথনের ওই অডিওতে স্পষ্ট হয় যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির কোনো ত্রুটি বা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ নেই। পরিবারের ভেতরের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাটিকে রহস্যজনক করে তুলেছে।

​তথ্য অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে ঘটনার দিনের ভিন্ন চিত্র। অসুস্থ বোধ করার পর সৌমিক রিকশাযোগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে চিকিৎসকের অপেক্ষায় তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ফেলে রাখা অবস্থায় ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জেনারেল হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসায় চরম অবহেলা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পাওয়াই ছিল মৃত্যুর মূল কারণ।

​এদিকে অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী কাইয়ুম জানান, “সৌমিক আমাদের এখানে সাধারণ কিছু পরীক্ষা ও ডাক্তার দেখানোর জন্য এসে ঘণ্টা দেড়েক অবস্থান করেন। তাঁকে কোনো ইনজেকশন পুশ করা হয়নি। বরং তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর আমরা নিজেরাই তাঁকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলাম।

​তিনি আরও বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা মৃতের পরিবারের অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের সাথেই পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

​উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ অপেক্ষার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৌমিককে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তাঁর শুভ পরিণয় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। বিয়েবাড়ির উৎসবমুগ্ধ পরিবেশ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নিলেও প্রকৃত কারণ আড়াল করে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জড়ানোর চেষ্টা এখন স্থানীয় সচেতন মহলেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

প্রকৌশলী সৌমিকের মৃত্যু: মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জড়ানোর চেষ্টা, ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে উল্টো চিত্র

error: Content is protected !!

প্রকৌশলী সৌমিকের মৃত্যু: মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জড়ানোর চেষ্টা, ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে উল্টো চিত্র

প্রকাশের সময়: ০৭:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের আগের দিন তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহারিয়া সৌমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শহরের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা নিয়ে তীব্র বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বোনের সংবাদ সম্মেলনের পর মৃতের বাবার একটি অডিও রেকর্ড এবং সরেজমিন তথ্যে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে পড়েছে। উল্টো গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চরম অবহেলা এবং সেখানে দীর্ঘ সময় বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখার বিষয়টিই সামনে আসছে।

​রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা শহরের দেশী ভোজ নামক একটি রেষ্টুরেন্টেে সংবাদ সম্মেলন করে সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, ১৫ অক্টোবর মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সৌমিক ভুল চিকিৎসার শিকার হন এবং সেখানে তাঁকে কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।

​তবে বোনের এই অভিযোগের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়েছে খোদ সৌমিকের বাবা  একটি ফোন রেকর্ডিং। অভিযুক্ত মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. কাইয়ুম এবং সৌমিকের বাবার মধ্যকার কথোপকথনের ওই অডিওতে স্পষ্ট হয় যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির কোনো ত্রুটি বা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ নেই। পরিবারের ভেতরের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাটিকে রহস্যজনক করে তুলেছে।

​তথ্য অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে ঘটনার দিনের ভিন্ন চিত্র। অসুস্থ বোধ করার পর সৌমিক রিকশাযোগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে চিকিৎসকের অপেক্ষায় তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ফেলে রাখা অবস্থায় ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জেনারেল হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসায় চরম অবহেলা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পাওয়াই ছিল মৃত্যুর মূল কারণ।

​এদিকে অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী কাইয়ুম জানান, “সৌমিক আমাদের এখানে সাধারণ কিছু পরীক্ষা ও ডাক্তার দেখানোর জন্য এসে ঘণ্টা দেড়েক অবস্থান করেন। তাঁকে কোনো ইনজেকশন পুশ করা হয়নি। বরং তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর আমরা নিজেরাই তাঁকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলাম।

​তিনি আরও বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা মৃতের পরিবারের অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের সাথেই পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

​উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ অপেক্ষার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৌমিককে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তাঁর শুভ পরিণয় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। বিয়েবাড়ির উৎসবমুগ্ধ পরিবেশ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নিলেও প্রকৃত কারণ আড়াল করে মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জড়ানোর চেষ্টা এখন স্থানীয় সচেতন মহলেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।