
কথিত অলৌকিক ক্ষমতা আর সমস্যার সমাধানের আড়ালে চলত ভয়ংকর কুফরি কাণ্ড। পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনের ওপর মানুষের মাথার খুলি ও হাড় রেখে করা হতো পূজা-অর্চনা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ধর্ম অবমাননা ও প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক কথিত ‘তান্ত্রিক’কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনাটি ঘটেছে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে রেজাউল করিমের একটি ভাড়া বাসায়। আটক তান্ত্রিকের নাম ও পরিচয় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তিনি উপজেলার ৭ নম্বর ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, তান্ত্রিকের ছদ্মবেশে ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে ধাপেরহাটের ভাড়া বাসাটিতে ‘কুফরি’ ও তান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। বিভিন্ন জটিল সমস্যার সহজ সমাধান, অলৌকিক ক্ষমতা ও শক্তিশালী তাবিজ-কবজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের অর্থ।
অনুসন্ধানকালে তান্ত্রিকের ওই আস্তানায় প্রবেশ করতেই বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব দৃশ্য। ঘরের ভেতরে ছড়ানো-ছিটানো ছিল,মানুষের মাথার খুলি ও হাড় সদৃশ বস্তু হরেক রকমের পুতুল ও বিশেষ পূজা-পার্বণের সরঞ্জাম প্রচুর পরিমাণে তাবিজ তৈরির উপাদান বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও রহস্যজনক ছবি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো—ভয়ংকর কুফরি সাধনার অংশ হিসেবে সেখানে মুসলিমদের পরম পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনের ওপর মানুষের মাথার খুলি বসিয়ে পূজা চালানো হতো। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

“তাবিজ-কবজের নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ঠকানো হচ্ছিল। কিন্তু পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা ও এসব ভয়ংকর আলামত উদ্ধার হওয়ার পর আমরা স্তম্ভিত। আমরা এই ভণ্ড তান্ত্রিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
উদ্ধার হওয়া গা শিউরে ওঠা এসব আলামত ও স্থানীয়দের লিখিত/মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর প্রকৃত উৎস এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই স্পর্শকাতর অপরাধ ও ধর্ম অবমাননার বিষয়টি আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








