রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল-কুরআনের ওপর মাথার খুলি রেখে কুফরি! ‘তান্ত্রিক’ গ্রেপ্তার

কথিত অলৌকিক ক্ষমতা আর সমস্যার সমাধানের আড়ালে চলত ভয়ংকর কুফরি কাণ্ড। পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনের ওপর মানুষের মাথার খুলি ও হাড় রেখে করা হতো পূজা-অর্চনা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ধর্ম অবমাননা ও প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক কথিত ‘তান্ত্রিক’কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​ঘটনাটি ঘটেছে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে রেজাউল করিমের একটি ভাড়া বাসায়। আটক তান্ত্রিকের নাম ও পরিচয় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তিনি উপজেলার ৭ নম্বর ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর গ্রামের বাসিন্দা।

​স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, তান্ত্রিকের ছদ্মবেশে ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে ধাপেরহাটের ভাড়া বাসাটিতে ‘কুফরি’ ও তান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। বিভিন্ন জটিল সমস্যার সহজ সমাধান, অলৌকিক ক্ষমতা ও শক্তিশালী তাবিজ-কবজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের অর্থ।

​অনুসন্ধানকালে তান্ত্রিকের ওই আস্তানায় প্রবেশ করতেই বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব দৃশ্য। ঘরের ভেতরে ছড়ানো-ছিটানো ছিল,​মানুষের মাথার খুলি ও হাড় সদৃশ বস্তু ​হরেক রকমের পুতুল ও বিশেষ পূজা-পার্বণের সরঞ্জাম ​প্রচুর পরিমাণে তাবিজ তৈরির উপাদান ​বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও রহস্যজনক ছবি।

​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো—ভয়ংকর কুফরি সাধনার অংশ হিসেবে সেখানে মুসলিমদের পরম পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনের ওপর মানুষের মাথার খুলি বসিয়ে পূজা চালানো হতো। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

“তাবিজ-কবজের নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ঠকানো হচ্ছিল। কিন্তু পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা ও এসব ভয়ংকর আলামত উদ্ধার হওয়ার পর আমরা স্তম্ভিত। আমরা এই ভণ্ড তান্ত্রিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

​উদ্ধার হওয়া গা শিউরে ওঠা এসব আলামত ও স্থানীয়দের লিখিত/মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর প্রকৃত উৎস এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গভীর তদন্ত শুরু করেছে।

​এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই স্পর্শকাতর অপরাধ ও ধর্ম অবমাননার বিষয়টি আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হোক।

আল-কুরআনের ওপর মাথার খুলি রেখে কুফরি! ‘তান্ত্রিক’ গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

আল-কুরআনের ওপর মাথার খুলি রেখে কুফরি! ‘তান্ত্রিক’ গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময়: ০৯:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কথিত অলৌকিক ক্ষমতা আর সমস্যার সমাধানের আড়ালে চলত ভয়ংকর কুফরি কাণ্ড। পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনের ওপর মানুষের মাথার খুলি ও হাড় রেখে করা হতো পূজা-অর্চনা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ধর্ম অবমাননা ও প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক কথিত ‘তান্ত্রিক’কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​ঘটনাটি ঘটেছে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে রেজাউল করিমের একটি ভাড়া বাসায়। আটক তান্ত্রিকের নাম ও পরিচয় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তিনি উপজেলার ৭ নম্বর ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর গ্রামের বাসিন্দা।

​স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, তান্ত্রিকের ছদ্মবেশে ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে ধাপেরহাটের ভাড়া বাসাটিতে ‘কুফরি’ ও তান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। বিভিন্ন জটিল সমস্যার সহজ সমাধান, অলৌকিক ক্ষমতা ও শক্তিশালী তাবিজ-কবজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের অর্থ।

​অনুসন্ধানকালে তান্ত্রিকের ওই আস্তানায় প্রবেশ করতেই বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব দৃশ্য। ঘরের ভেতরে ছড়ানো-ছিটানো ছিল,​মানুষের মাথার খুলি ও হাড় সদৃশ বস্তু ​হরেক রকমের পুতুল ও বিশেষ পূজা-পার্বণের সরঞ্জাম ​প্রচুর পরিমাণে তাবিজ তৈরির উপাদান ​বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ও রহস্যজনক ছবি।

​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো—ভয়ংকর কুফরি সাধনার অংশ হিসেবে সেখানে মুসলিমদের পরম পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনের ওপর মানুষের মাথার খুলি বসিয়ে পূজা চালানো হতো। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

“তাবিজ-কবজের নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ঠকানো হচ্ছিল। কিন্তু পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা ও এসব ভয়ংকর আলামত উদ্ধার হওয়ার পর আমরা স্তম্ভিত। আমরা এই ভণ্ড তান্ত্রিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

​উদ্ধার হওয়া গা শিউরে ওঠা এসব আলামত ও স্থানীয়দের লিখিত/মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর প্রকৃত উৎস এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গভীর তদন্ত শুরু করেছে।

​এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই স্পর্শকাতর অপরাধ ও ধর্ম অবমাননার বিষয়টি আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হোক।