
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পূর্ববর্তী মামলার জের ধরে মো. রানা মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে অপহৃত যুবকের কোনো সন্ধান না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে তার পরিবার। স্বামীর প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অপহৃতের স্ত্রী মোছাঃ রওশন আরা (৩১)।
থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই (২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে সুন্দরগঞ্জ থানার উত্তর মরূয়াদহ গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। রানা মিয়া তার বোন (মাছুমা বেগম)-এর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা লোকজনসহ এসে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনছার আলী, মাছুমা বেগম এবং মো. নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় অনেকেই এই ফিল্মি স্টাইলের অপহরণের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই অপহরণের ঘটনায় একই থানার সুবর্ণদহ গ্রামের মোছাঃ শাহনাজ পারভীন (৩২) এবং মো. মিজানুর রহমান (৩৫)-কে দায়ী করা হয়েছে।
জানা যায়, ১নং অভিযুক্ত শাহনাজ পারভীন এর আগে রানা মিয়ার বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি প্রতারণা ও আত্মসাতের মামলা (মামলা নং ৩০/৮৭, তারিখ: ২০/০৩/২০২৫, ধারা- ৪০৬/৪২০/৩৪ দঃ বিঃ) দায়ের করেছিলেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে এবং রানা মিয়া উক্ত মামলায় আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হয়ে মুক্ত ছিলেন। স্ত্রীর দাবি, এই পূর্বশত্রুতার জের ধরেই প্রতিপক্ষরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে।
অপহৃতের স্ত্রী রওশন আরা তার অভিযোগে চরম শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বিবাদীরা আমার স্বামীকে অপহরণ করে কোথায়, কোন অবস্থায় আটকে রেখেছে তার কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। তারা আমার স্বামীকে মারধরসহ যেকোনো মুহূর্তে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে।
তিনি নিজে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আইনি সহায়তার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) বরাবর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের এখন একটাই দাবি—প্রশাসন যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অপহৃত রানা মিয়াকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে এবং প্রকাশ্য দিবালোকে এমন দুঃসাহসিক অপহরণের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








