মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবাসিক হলে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিং, নড়েচড়ে বসেছে মানবাধিকার কমিশন

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিং ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসেছে মানবাধিকার কমিশন।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের একান্ত সচিব বরাবর অবগতি ও প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

চিঠিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা আগামী ২৯ জুলাইয়ে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্ব-প্রনোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নেয়। আমাদের সর্বশেষ বেঞ্চে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আলোচনায় বেঞ্চের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, অপরাধের তুলনায় শাস্তির সুপারিশ পর্যাপ্ত না, এটা ফৌজদারি অপরাধ। তারপরও সুপারিশের আলোকে এ শাস্তি কার্যকর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেটা আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে মানবাধিকার কমিশনে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন প্রত্যাশা করে তদন্ত কমিটির সুপারিশ দ্রুত কার্যকর করা হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরবর্তী বেঞ্চে আলোচনা করা হবে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত “বিবস্ত্র করে র‍্যাগিং” শীর্ষক সংবাদের প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়।

চিঠিতে সংস্থাটি আরও জানান, শিক্ষা একটি মানবাধিকার। প্রত্যেক মানুষেরই শিক্ষার অধিকার রয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ ও মননশীল শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে মানবাধিকার নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লিখিত ঘটনাটি নৈতিক স্খলনের উদাহরণ।

চিঠিতে ইতোপূর্বের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে সংঘটিত র‍্যাগিং বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সে সময়ের শাস্তির বিষয়টি সর্বমহল অবহিত হওয়ার পরও অপরাধীরা এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ায় অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম. আলী হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত,গত ২ জুন হল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের আলোকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত, কাফি, সাগর ও উজ্জ্বলসহ তিনজনকে এক বছরের (দুই সেমিস্টার) জন্য সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

জনপ্রিয়

নতুন বেতনস্কেলে চমক: ওপরের ধাপে দ্বিগুণ, নিচে বাড়ল ১৪২% পর্যন্ত

error: Content is protected !!

আবাসিক হলে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিং, নড়েচড়ে বসেছে মানবাধিকার কমিশন

প্রকাশের সময়: ১১:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিং ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসেছে মানবাধিকার কমিশন।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের একান্ত সচিব বরাবর অবগতি ও প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

চিঠিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা আগামী ২৯ জুলাইয়ে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্ব-প্রনোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নেয়। আমাদের সর্বশেষ বেঞ্চে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আলোচনায় বেঞ্চের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, অপরাধের তুলনায় শাস্তির সুপারিশ পর্যাপ্ত না, এটা ফৌজদারি অপরাধ। তারপরও সুপারিশের আলোকে এ শাস্তি কার্যকর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেটা আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে মানবাধিকার কমিশনে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন প্রত্যাশা করে তদন্ত কমিটির সুপারিশ দ্রুত কার্যকর করা হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরবর্তী বেঞ্চে আলোচনা করা হবে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত “বিবস্ত্র করে র‍্যাগিং” শীর্ষক সংবাদের প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়।

চিঠিতে সংস্থাটি আরও জানান, শিক্ষা একটি মানবাধিকার। প্রত্যেক মানুষেরই শিক্ষার অধিকার রয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ ও মননশীল শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে মানবাধিকার নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লিখিত ঘটনাটি নৈতিক স্খলনের উদাহরণ।

চিঠিতে ইতোপূর্বের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে সংঘটিত র‍্যাগিং বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সে সময়ের শাস্তির বিষয়টি সর্বমহল অবহিত হওয়ার পরও অপরাধীরা এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ায় অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম. আলী হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত,গত ২ জুন হল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের আলোকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত, কাফি, সাগর ও উজ্জ্বলসহ তিনজনকে এক বছরের (দুই সেমিস্টার) জন্য সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।