রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুনের নেশায় চেনা বন্ধুরা? হাওয়া দিঘিতে গোসলের নামে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হলো রাহাতের প্রাণ!

গাইবান্ধায তিন বন্ধু পুকুরে গোসল করতে নেমে তর্কের জেরে এক বন্ধুকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের ‘হাওয়া দিঘিতে’ ঘটে যাওয়া এই বুকফাটা ঘটনাটি এখন পুরো জেলাজুড়ে টক অব দ্য টাউন।

​নিহত কিশোরের নাম রাহাত । সে হরিণসিংহা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর নিহতের পরিবারে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে রাহাত ও তার দুই বন্ধু—একই এলাকার জবান আলীর ছেলে সাকিব এবং সাইদুল ইসলামের ছেলে রিফাত মিলে হাওয়া দিঘিতে গোসলে নামে। গোসলের এক পর্যায়ে কোনো এক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। কিন্তু সেই সামান্য তর্ক যে মুহূর্তে এত বড় আক্রোশে রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। অভিযোগ উঠেছে, তর্কের একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে জোরপূর্বক পানির নিচে চুবিয়ে ধরে রাখে। দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে দম আটকে থাকায় একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে রাহাত।

​রাহাতের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত দুই কিশোর সাকিব ও রিফাত। পরে স্থানীয় লোকজন রাহাতকে পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয় পূর্ব শত্রুতা বা কোনো ক্ষোভ থেকে রাহাতকে পরিকল্পিতভাবে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে তার দুই বন্ধু এমন অভিযোগ পরিবারের।

খবর পেয়ে পুলিশ রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই কেবল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ​তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর পলাতক রয়েছে।

তবে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে।

​

জনপ্রিয়

তৃণমূল জয়ের ছক বিএনপির: গাইবান্ধা সদরের ১৩ ইউনিয়নে ধানের শীষের ফরম নিলেন প্রার্থীরা

error: Content is protected !!

খুনের নেশায় চেনা বন্ধুরা? হাওয়া দিঘিতে গোসলের নামে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হলো রাহাতের প্রাণ!

প্রকাশের সময়: ১০:৫০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

গাইবান্ধায তিন বন্ধু পুকুরে গোসল করতে নেমে তর্কের জেরে এক বন্ধুকে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের ‘হাওয়া দিঘিতে’ ঘটে যাওয়া এই বুকফাটা ঘটনাটি এখন পুরো জেলাজুড়ে টক অব দ্য টাউন।

​নিহত কিশোরের নাম রাহাত । সে হরিণসিংহা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর নিহতের পরিবারে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে রাহাত ও তার দুই বন্ধু—একই এলাকার জবান আলীর ছেলে সাকিব এবং সাইদুল ইসলামের ছেলে রিফাত মিলে হাওয়া দিঘিতে গোসলে নামে। গোসলের এক পর্যায়ে কোনো এক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। কিন্তু সেই সামান্য তর্ক যে মুহূর্তে এত বড় আক্রোশে রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। অভিযোগ উঠেছে, তর্কের একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে জোরপূর্বক পানির নিচে চুবিয়ে ধরে রাখে। দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে দম আটকে থাকায় একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে রাহাত।

​রাহাতের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত দুই কিশোর সাকিব ও রিফাত। পরে স্থানীয় লোকজন রাহাতকে পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয় পূর্ব শত্রুতা বা কোনো ক্ষোভ থেকে রাহাতকে পরিকল্পিতভাবে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে তার দুই বন্ধু এমন অভিযোগ পরিবারের।

খবর পেয়ে পুলিশ রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই কেবল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ​তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর পলাতক রয়েছে।

তবে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে।

​