
শহরে বাণিজ্য মেলা ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র যানজট, ঘনঘন লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ বিভাগের চরম দায়িত্বহীনতার চড়া মাশুল দিলেন এক ব্যবসায়ী। আজ রাত ৮ টার দিকে জেলা শহরের মধ্যপাড়া গার্লস স্কুল সংলগ্ন ‘রিমি স্টোর’-এর একটি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মালামাল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের চরম ভোল্টেজ ওঠানামা ও শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শহরে বাণিজ্য মেলা চালু হওয়ার পর থেকেই গাইবান্ধায় অসহনীয় লোডশেডিং এবং তীব্র যানজট নিত্যদিনের ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। ঘটনার দিন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুতের লাইন ‘ট্রিপ’ করছিল। ঘনঘন এই ভোল্টেজ বিপর্যয়ের কারণে এলাকার বেশ কয়েকটি বাসা-বাড়ির ফ্রিজ, টেলিভিশন ও লাইট নষ্ট হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ব্যবসায়ী রুবেলের মালিকানাধীন ‘রিমি স্টোর’-এর গোডাউন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখেন স্থানীয়রা।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলেও শুরুতে কোনো সাড়া মেলেনি। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর একপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা ফোন ধরলেও লাইন বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের সাফ জবাব—‘মেলার কারণে পুরো লাইন বন্ধ করা সম্ভব নয়’। বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে স্থানীয়দের এই বাকবিতণ্ডার মূল্যবান সময়টুকুতেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হলেও বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে শহরে সৃষ্ট স্থবির যানজটের মুখে পড়ে। দীর্ঘ সময় পর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট কোনোমতে পৌঁছালেও ততক্ষণে গোডাউনের পুরো মালামাল আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের অক্লান্ত সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
গোডাউন মালিক রুবেল ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে তাদের আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মালামাল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, বাণিজ্য মেলার অতিরিক্ত লোড সামলাতে না পেরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার বলি হলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী। একদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ, অন্যদিকে মেলাকেন্দ্রিক যানজটে ফায়ার সার্ভিসের দেরি হওয়া—এই দুই অব্যবস্থাপনাকেই এত বড় আর্থিক বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















