শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ বছরের ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম: প্রতিবাদ করায় বাড়ি গিয়ে হুমকি, পরদিন ফের পিটিয়ে স্কুলছাড়া করলেন শিক্ষিকা!

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোদ্দমালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে কাঠের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে জখম ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগমের বিরুদ্ধে। শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষিকা ও তাঁর স্বামী শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে শাসিয়ে এসেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খোদ্দ মালিবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের রোকন মিয়ার ৮ বছর বয়সী কন্যা রুকসানা আক্তার খোদ্দমালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস করে আসছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলা ক্লাস চলাকালীন সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম কোনো কারণ ছাড়াই ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের স্কেল দিয়ে রুকসানাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে শিশুটির ডান হাত গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় শিশুটি বাড়িতে ফিরে কান্নাকাটি করে বিষয়টি মা-বাবাকে জানায়।

​ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালে তাঁরা সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর সকালে শিশুটির মা মোছাঃ ফরিদা বেগম স্কুলে গিয়ে শিক্ষিকার আচরণের প্রতিবাদ ও বিচার চান। এতে প্রধান বা সহকর্মীদের সামনে অনুতপ্ত না হয়ে উল্টো চরম ক্ষিপ্ত হন অভিযুক্ত শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম।

​অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দিনই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে শিক্ষিকা মাহবুব আরা ও তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ দলবল নিয়ে শিক্ষার্থীর বাড়িতে চড়াও হন। সেখানে তাঁরা শিশুর পিতা-মাতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শিশুটি আবার স্কুলে গেলে আরও মারধর করা হবে বলে প্রকাশ্য হুমকি দেন।

​শিক্ষিকার হুমকির ধারাবাহিকতায় পরদিন ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রুকসানা ক্লাসে গেলে মাহবুব আরা বেগম তাকে আবারও মারধর করেন। এরপর ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে স্কুল থেকে এক কাপড়ে তাড়িয়ে দেন। গুরুতর আঘাত ও আতঙ্কে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিভাবকরা তাকে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা রোকন মিয়া বলেন, “সরকার স্কুলে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করেছে। অথচ একজন শিক্ষিকা আমার ৮ বছরের অবুঝ মেয়েটাকে পশুর মতো কাঠের স্কেল দিয়ে পেটালেন। বিচার চাইতে গেলে বাড়িতে এসে শাসিয়ে যান এবং পরদিন আবারও মেয়েটাকে মেরে স্কুল থেকে বের করে দেন। আমার মেয়ে এখন প্রচণ্ড মানসিক আতঙ্কে আছে। আমি এই নির্মম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

​এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। শিক্ষাঙ্গনে এমন অমানবিক আচরণ ও শিক্ষার্থীর ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয়

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বুকে মেলা: চেম্বারের সাইনবোর্ডে বহিরাগত চক্রের হরিলুট

error: Content is protected !!

৮ বছরের ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম: প্রতিবাদ করায় বাড়ি গিয়ে হুমকি, পরদিন ফের পিটিয়ে স্কুলছাড়া করলেন শিক্ষিকা!

প্রকাশের সময়: ১১:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোদ্দমালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে কাঠের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে জখম ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগমের বিরুদ্ধে। শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষিকা ও তাঁর স্বামী শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে শাসিয়ে এসেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খোদ্দ মালিবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের রোকন মিয়ার ৮ বছর বয়সী কন্যা রুকসানা আক্তার খোদ্দমালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস করে আসছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলা ক্লাস চলাকালীন সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম কোনো কারণ ছাড়াই ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের স্কেল দিয়ে রুকসানাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে শিশুটির ডান হাত গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় শিশুটি বাড়িতে ফিরে কান্নাকাটি করে বিষয়টি মা-বাবাকে জানায়।

​ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালে তাঁরা সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর সকালে শিশুটির মা মোছাঃ ফরিদা বেগম স্কুলে গিয়ে শিক্ষিকার আচরণের প্রতিবাদ ও বিচার চান। এতে প্রধান বা সহকর্মীদের সামনে অনুতপ্ত না হয়ে উল্টো চরম ক্ষিপ্ত হন অভিযুক্ত শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম।

​অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দিনই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে শিক্ষিকা মাহবুব আরা ও তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ দলবল নিয়ে শিক্ষার্থীর বাড়িতে চড়াও হন। সেখানে তাঁরা শিশুর পিতা-মাতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শিশুটি আবার স্কুলে গেলে আরও মারধর করা হবে বলে প্রকাশ্য হুমকি দেন।

​শিক্ষিকার হুমকির ধারাবাহিকতায় পরদিন ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রুকসানা ক্লাসে গেলে মাহবুব আরা বেগম তাকে আবারও মারধর করেন। এরপর ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে স্কুল থেকে এক কাপড়ে তাড়িয়ে দেন। গুরুতর আঘাত ও আতঙ্কে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিভাবকরা তাকে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা রোকন মিয়া বলেন, “সরকার স্কুলে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করেছে। অথচ একজন শিক্ষিকা আমার ৮ বছরের অবুঝ মেয়েটাকে পশুর মতো কাঠের স্কেল দিয়ে পেটালেন। বিচার চাইতে গেলে বাড়িতে এসে শাসিয়ে যান এবং পরদিন আবারও মেয়েটাকে মেরে স্কুল থেকে বের করে দেন। আমার মেয়ে এখন প্রচণ্ড মানসিক আতঙ্কে আছে। আমি এই নির্মম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

​এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। শিক্ষাঙ্গনে এমন অমানবিক আচরণ ও শিক্ষার্থীর ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।