
ছেলের বিয়েতে রাজকীয় আয়োজন, বৌভাতে আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের জন্য মাংসের এলাহী বন্দোবস্ত। কিন্তু সেই মহাভোজের গরুটিই ছিল চুরি করা! আনন্দ-উল্লাসে মাংস রান্না চলাকালীনই হাতেনাতে ধরা পড়ে শ্রীঘরে যেতে হলো বরকর্তাকে। চাঞ্চল্যকর ও চরম লজ্জাজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের বকশিচর এলাকা থেকে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহানের সঙ্গে রুদ্রনগর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয় শুক্রবার। শনিবার সোহানের বাড়িতে মহাআড়ম্বরে বৌভাতের ভূরিভোজের প্রস্তুতি চলছিল। আয়োজনের অংশ হিসেবে মেহমানদের আপ্যায়নে একটি গরু জবাই করেন বরকর্তা রফিকুল।
এদিকে শুক্রবার ভোররাতে পাশের পূর্ব মাস্তা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলামের গোয়ালঘর ভেঙে একটি গরু চুরি হয়ে যায়। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শহিদুল জানতে পারেন, বকশিচর গ্রামে সদ্য জবাই করা গরুটিই আসলে তাঁর গোয়াল থেকে চুরি যাওয়া সেই গরু। রাতের আঁধারে গোয়াল শূন্য করে গরু এনে বৌভাতের উৎসবে জবাই করার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি এবং সরাসরি গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত বকশিচরে অভিযান চালিয়ে আনন্দ আয়োজনের মাঝেই রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে আটকের পর রফিকুলের দাবি, তিনি নির্দোষ এবং তাকে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ফাঁসানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান জানান, চোরাই গরু দিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, চুরির ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










