মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত ও চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদত্যাগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৮:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শরিফুল ইসলাম আকাশ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের ভেতরে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, অযোগ্য নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনের মতো গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করছেন, যা তার ব্যক্তিগত নীতি ও সাংগঠনিক আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলার অন্যতম মূল সংগঠক হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সাংগঠনিক সভা আয়োজন, জুলাই-আগস্টে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঘোষিত গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে এমন একজনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে, যিনি কখনোই জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং তার ছাত্রত্বও নেই। বরং তিনি অতীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন।

তিনি আরও জানান, রংপুর বিভাগীয় এক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাকে ফোন করে কমিটির বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেন এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রস্তাবিত কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহিত করা হলেও কেউ দায় স্বীকার করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

শরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন,“অযোগ্য নেতৃত্ব ও অর্থের বিনিময়ে কমিটিকে প্রাধান্য দিয়ে গাইবান্ধা জেলায় নেতৃত্ব দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। জুলাই মাসে আমার জেলায় ছয়জন শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। সেই চেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো আপস আমি করতে পারি না।”

পদত্যাগপত্রে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আহ্বায়ক কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না,তা তদন্তের দাবি জানান এবং যোগ্যতা, সততা,পরিশ্রম ও ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে কমিটি সংশোধনের আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়

নতুন বেতনস্কেলে চমক: ওপরের ধাপে দ্বিগুণ, নিচে বাড়ল ১৪২% পর্যন্ত

error: Content is protected !!

অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত ও চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের পদত্যাগ

প্রকাশের সময়: ০৮:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শরিফুল ইসলাম আকাশ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের ভেতরে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, অযোগ্য নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনের মতো গুরুতর অনিয়ম লক্ষ্য করছেন, যা তার ব্যক্তিগত নীতি ও সাংগঠনিক আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলার অন্যতম মূল সংগঠক হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সাংগঠনিক সভা আয়োজন, জুলাই-আগস্টে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঘোষিত গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে এমন একজনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে, যিনি কখনোই জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং তার ছাত্রত্বও নেই। বরং তিনি অতীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন।

তিনি আরও জানান, রংপুর বিভাগীয় এক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাকে ফোন করে কমিটির বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেন এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রস্তাবিত কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহিত করা হলেও কেউ দায় স্বীকার করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

শরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন,“অযোগ্য নেতৃত্ব ও অর্থের বিনিময়ে কমিটিকে প্রাধান্য দিয়ে গাইবান্ধা জেলায় নেতৃত্ব দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। জুলাই মাসে আমার জেলায় ছয়জন শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। সেই চেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো আপস আমি করতে পারি না।”

পদত্যাগপত্রে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আহ্বায়ক কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না,তা তদন্তের দাবি জানান এবং যোগ্যতা, সততা,পরিশ্রম ও ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে কমিটি সংশোধনের আহ্বান জানান।