সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তান বিক্রি! উদ্ধারে ব্যস্ত পুলিশ

শখের দাম মেটাতে নিজের দেড় বছরের দুধের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। নতুন মডেলের আইফোন কেনার উন্মাদনায় এমন অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন মো. মারুফ নামের এক কাঠমিস্ত্রি। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী বড় গোপালদী গ্রামে ঘটা এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

​অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। বিক্রি হওয়া দেড় বছর বয়সী শিশুটির নাম মুসা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে দাদি মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে “বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা” বলে শিশু মুসাকে নিয়ে বের হন মারুফ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

​পরে জানা যায়, শিশুটিকে রমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে স্ট্যাম্পে লিখে ১ লাখ টাকায় তুলে দিয়ে সোজা ঢাকায় চলে যান মারুফ। সেখানে পুরোনো ফোন বদলে আইফোনের নতুন মডেল কেনার পর তিনি ওঠেন মামা বাহাদুর মিয়ার বাসায়। মামার বাড়ির স্বজনরা শিশুটির কথা জানতে চাইলে প্রথমে এড়িয়ে গেলেও চাপের মুখে সন্তানকে বিক্রির কথা স্বীকার করেন মারুফ।

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, ‘মারুফ সকালে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলে বাজারে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা নামলেও ফিরে না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি—১ লাখ টাকায় নাতিকে বেচে দিয়েছে। আমি আমার কলিজার টুকরো নাতিকে ফেরত চাই।’

টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইমরান হোসেন। তিনি মুঠোফোনে জানান, ‘মারুফ বেশ কিছুদিন ধরেই তার ছেলেকে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আমার শ্বশুরের পাঁচটি মেয়ে হলেও কোনো ছেলে নেই। তাই সবার সঙ্গে কথা বলে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত স্ট্যাম্প করে শিশুটিকে নিয়েছি এবং বিকেলে শ্বশুরের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’

​তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া অর্থের বিনিময়ে এমন ‘সন্তান হস্তান্তর’ সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবপাচার/শিশু বিক্রির অপরাধের আওতায় পড়ে বলে জানিয়েছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।

চার বছর আগে সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন মারুফ। মাসখানেক আগে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে মারুফও ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে পরদিনই এমন চরম পদক্ষেপ নেন তিনি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। শিশুটির বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

জনপ্রিয়

আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তান বিক্রি! উদ্ধারে ব্যস্ত পুলিশ

error: Content is protected !!

আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তান বিক্রি! উদ্ধারে ব্যস্ত পুলিশ

প্রকাশের সময়: ০৫:১৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

শখের দাম মেটাতে নিজের দেড় বছরের দুধের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। নতুন মডেলের আইফোন কেনার উন্মাদনায় এমন অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন মো. মারুফ নামের এক কাঠমিস্ত্রি। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী বড় গোপালদী গ্রামে ঘটা এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

​অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। বিক্রি হওয়া দেড় বছর বয়সী শিশুটির নাম মুসা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে দাদি মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে “বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা” বলে শিশু মুসাকে নিয়ে বের হন মারুফ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

​পরে জানা যায়, শিশুটিকে রমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে স্ট্যাম্পে লিখে ১ লাখ টাকায় তুলে দিয়ে সোজা ঢাকায় চলে যান মারুফ। সেখানে পুরোনো ফোন বদলে আইফোনের নতুন মডেল কেনার পর তিনি ওঠেন মামা বাহাদুর মিয়ার বাসায়। মামার বাড়ির স্বজনরা শিশুটির কথা জানতে চাইলে প্রথমে এড়িয়ে গেলেও চাপের মুখে সন্তানকে বিক্রির কথা স্বীকার করেন মারুফ।

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, ‘মারুফ সকালে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলে বাজারে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা নামলেও ফিরে না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি—১ লাখ টাকায় নাতিকে বেচে দিয়েছে। আমি আমার কলিজার টুকরো নাতিকে ফেরত চাই।’

টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইমরান হোসেন। তিনি মুঠোফোনে জানান, ‘মারুফ বেশ কিছুদিন ধরেই তার ছেলেকে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আমার শ্বশুরের পাঁচটি মেয়ে হলেও কোনো ছেলে নেই। তাই সবার সঙ্গে কথা বলে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত স্ট্যাম্প করে শিশুটিকে নিয়েছি এবং বিকেলে শ্বশুরের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’

​তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া অর্থের বিনিময়ে এমন ‘সন্তান হস্তান্তর’ সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবপাচার/শিশু বিক্রির অপরাধের আওতায় পড়ে বলে জানিয়েছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।

চার বছর আগে সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন মারুফ। মাসখানেক আগে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে মারুফও ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে পরদিনই এমন চরম পদক্ষেপ নেন তিনি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। শিশুটির বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান।