সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ’লীগ নেতার জামাই এনামুল এখন জামায়াতের ‘প্রভাবশালী’ নেতা- সালাহ উদ্দিন হত্যার খুনিদের বাঁচাতে অপপ্রচারের অভিযোগ

বিগত ১৬ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় শ্বশুর ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের প্রভাবে ধরাকে সরা জ্ঞান করা সেই এনামুল হক সরকার ভোল পাল্টে এখন জামায়াতের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপট দেখাচ্ছেন। সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আ. হামিদ সরকার বাবুর মেয়ে জামাই উপজেলা জামায়াত নেতা এনামুল হক সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় পতিত আওয়ামী দোসরদের সাথে গভীর আঁতাত বজায় রেখে সরকারি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ ও শহীদ সালাহ উদ্দিন হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী শাসনামলে সাবেক এমপি ও নিজ শ্বশুরের ক্ষমতার জোরে এনামুল হক সরকার বাগিয়ে নেন কলেজের প্রভাষকের পদ। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার হাট-বাজার ইজারা, রেলওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকাদারি, তদবির বাণিজ্য, ইটভাটার বড় অঙ্কের শেয়ার, বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন উপজেলায় কোটি টাকার ঠিকাদারি এবং লাভজনক এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করেছেন তিনি। ক্ষমতার পালাবদলের পরও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে তার গোপন সমঝোতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। বর্তমানে নিজ দল জামায়াতের নাম ও প্রভাব ভাঙিয়ে তিনি আগের মতোই রমরমা ব্যবসা ও দখল বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করা, ঢাকা ও গাইবান্ধা কারাগারে বহুবার কারাভোগকারী সাঘাটার ত্যাগী মুখ শহীদ সালাহ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের এখনো ৪০ দিন পার হয়নি। কিন্তু রক্তের দাগ না শুকাতেই শুরু হয়েছে ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত। অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আসামিদের আড়াল ও রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন এনামুল। এমনকি শহীদ সালাহ উদ্দিনের ওপর ‘মাদক ব্যবসায়ী’র মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া এবং জামায়াতের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে কালিমালিপ্ত করার পেছনেও এই নীতিভ্রষ্ট নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।

​ত্যাগী নেতাকর্মীদের রক্ত আর আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এনামুল হক সরকারের মতো সুবিধাবাদী ব্যক্তি কীভাবে জামায়াতের মতো আদর্শিক প্ল্যাটফর্মকে নিজের ব্যক্তিগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন—তা নিয়ে উপজেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এনামুল কি জামায়াতের নীতি-আদর্শ লালন করেন, নাকি নিজের স্বার্থ হাসিল ও ক্ষমতার মোহে দলকে ব্যবহার করছেন? অবিলম্বে এই অপতৎপরতা বন্ধসহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

আ’লীগ নেতার জামাই এনামুল এখন জামায়াতের ‘প্রভাবশালী’ নেতা- সালাহ উদ্দিন হত্যার খুনিদের বাঁচাতে অপপ্রচারের অভিযোগ

error: Content is protected !!

আ’লীগ নেতার জামাই এনামুল এখন জামায়াতের ‘প্রভাবশালী’ নেতা- সালাহ উদ্দিন হত্যার খুনিদের বাঁচাতে অপপ্রচারের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বিগত ১৬ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় শ্বশুর ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের প্রভাবে ধরাকে সরা জ্ঞান করা সেই এনামুল হক সরকার ভোল পাল্টে এখন জামায়াতের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপট দেখাচ্ছেন। সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আ. হামিদ সরকার বাবুর মেয়ে জামাই উপজেলা জামায়াত নেতা এনামুল হক সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় পতিত আওয়ামী দোসরদের সাথে গভীর আঁতাত বজায় রেখে সরকারি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ ও শহীদ সালাহ উদ্দিন হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী শাসনামলে সাবেক এমপি ও নিজ শ্বশুরের ক্ষমতার জোরে এনামুল হক সরকার বাগিয়ে নেন কলেজের প্রভাষকের পদ। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার হাট-বাজার ইজারা, রেলওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকাদারি, তদবির বাণিজ্য, ইটভাটার বড় অঙ্কের শেয়ার, বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন উপজেলায় কোটি টাকার ঠিকাদারি এবং লাভজনক এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করেছেন তিনি। ক্ষমতার পালাবদলের পরও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে তার গোপন সমঝোতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। বর্তমানে নিজ দল জামায়াতের নাম ও প্রভাব ভাঙিয়ে তিনি আগের মতোই রমরমা ব্যবসা ও দখল বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করা, ঢাকা ও গাইবান্ধা কারাগারে বহুবার কারাভোগকারী সাঘাটার ত্যাগী মুখ শহীদ সালাহ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের এখনো ৪০ দিন পার হয়নি। কিন্তু রক্তের দাগ না শুকাতেই শুরু হয়েছে ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত। অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আসামিদের আড়াল ও রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন এনামুল। এমনকি শহীদ সালাহ উদ্দিনের ওপর ‘মাদক ব্যবসায়ী’র মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া এবং জামায়াতের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে কালিমালিপ্ত করার পেছনেও এই নীতিভ্রষ্ট নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।

​ত্যাগী নেতাকর্মীদের রক্ত আর আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এনামুল হক সরকারের মতো সুবিধাবাদী ব্যক্তি কীভাবে জামায়াতের মতো আদর্শিক প্ল্যাটফর্মকে নিজের ব্যক্তিগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন—তা নিয়ে উপজেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এনামুল কি জামায়াতের নীতি-আদর্শ লালন করেন, নাকি নিজের স্বার্থ হাসিল ও ক্ষমতার মোহে দলকে ব্যবহার করছেন? অবিলম্বে এই অপতৎপরতা বন্ধসহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।