
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার আগেই কষ্টিপাথরের দুটি প্রাচীন মূল্যবান মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের দইহারা গ্রামে যৌথ অভিযান চালিয়ে এ চালান জব্দ করা হয়। এ সময় আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দইহারা গ্রামের আলিপ হোসেন (২২), একই গ্রামের সরজিনা আক্তার (৩০) এবং পণ্ডিতপুর জিড়াই গ্রামের এনামুল হক (৫০)।
শুক্রবার দুপুরে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোবিন্দগঞ্জের দইহারা গ্রামে কষ্টিপাথরের বড় একটি চালান পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঝটিকা অভিযান চালায় বিজিবির টহল দল। অভিযানে একটি বাড়ি থেকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা দুটি মূর্তি উদ্ধারসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
উদ্ধারের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মূর্তি দুটির সত্যতা ও মান যাচাই করা হয়। ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করে দেখা যায়, বড় মূর্তিটির ওজন ১১৮ কেজি ৯০০ গ্রাম (প্রায় ১১৯ কেজি) এবং অপেক্ষাকৃত ছোট মূর্তিটির ওজন ১৬ কেজি ৮৭০ গ্রাম। বিজিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রায় ১৩৬ কেজি ওজনের এই দুটি প্রত্নসম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা একটি আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সুরক্ষায় সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















