
গাইবান্ধায় দাদন ব্যবসায়ীদের সীমাহীন চাপ, সুদের চক্রবৃদ্ধি বোঝা এবং বাড়ি দখলের হুমকির মুখে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল (৫০) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে পকেটে রেখে যাওয়া একটি চিরকুটে তিনি কয়েকজন পাওনাদার ও দাদন ব্যবসায়ীর নাম লিখে তাদের সরাসরি দায়ী করে গেছেন।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকায় সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পদ্মরাগ ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল গাইবান্ধা পৌর শহরের পূর্ব কোমরনই মিতালী বাজার এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বিপুল। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত সুদের টাকা পরিশোধের জন্য ওই চক্রটি তাকে নানাভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এমনকি সম্প্রতি তার বাড়ি দখল করারও হুমকি দেওয়া হয়। এই বহুমুখী মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি চরম এই পথ বেছে নেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানায়, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পদ্মরাগ ট্রেনটি গাইবান্ধা শহরের দুই নম্বর রেলগেট পার হওয়ার সময় বিপুল ট্রেনের সামনে হঠাৎ লাফ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার পকেট থেকে কয়েকজনের নাম লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যার সূত্র ধরেই তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা রেলওয়ে পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গনি জানান, “খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। তার পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে তিনি ৬ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন।”
পুলিশ ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ দাদন ব্যবসা ও চক্রবৃদ্ধি সুদের যাঁতাকলে পড়ে আজ সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। চিরকুটে উল্লেখিত নামগুলো খতিয়ে দেখে এবং তদন্ত সাপেক্ষে এই আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








