সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটপাত বাণিজ্যের নেপথ্যে পুরোনো চাঁদাবাজরাই: সাংবাদিককে ফাঁসিয়ে রাজত্ব টিকিয়ে রাখার অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০২:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

সাপ্তাহিক ‘তথ্য বিচিত্রা’র সাংবাদিক দুলাল বিশ্বাসকে ‘মব’ সৃষ্টি করে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মিরপুরের ফুটপাতে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের তথ্য প্রকাশ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রাজধানীর মিরপুরের ফুটপাত চাঁদাবাজির দৃশ্যপট বদলায়নি। ৫ আগস্টের পর নতুন সমীকরণে পুরোনো চাঁদাবাজরাই পর্দার আড়াল থেকে ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এবং রাজনৈতিক খোলস পাল্টে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে প্রকাশ্যে চলছে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পরদিনই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিরপুর-১০, ফায়ার সার্ভিস মোড়, আইডিয়াল স্কুল, হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ওয়াসা মোড় সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাতে কয়েক হাজার অবৈধ দোকান বসানো হয়েছে। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়।

​আইডিয়াল ও হোপ স্কুলের সামনে বসা প্রায় চার শতাধিক দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং মাস শেষে দোকানপ্রতি ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। কেবল হোপ স্কুলের সামনের প্রায় ৭০০ দোকান থেকেই মাসিক চাঁদা তোলা হয় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া ফুটপাতের ‘পজিশন’ কেনাবেচা ও অগ্রিম জামানতের নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এককালীন লাখ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, বিগত সরকারের আমলে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ছত্রছায়ায় থাকা চক্রটিই এখন খোলস পাল্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ताज ও আব্বাসের নামে পর্দার অন্তরালে থেকে চাঁদা আদায় করছে সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম মামুন, শাহীনূর ইসলাম জীবন এবং স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নজু মাদবর চক্র। চাঁদা আদায় ও তদারকির জন্য ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে সাদ্দাম, শহিদ, বাপ্পি, মুরসালিন, মোক্তার, রনি, জাপান, এরশাদ, পারভেজ ও সাকিবের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ব্যবসায়ী পরিচয়ের আড়ালে রাসেল, কাওসার, আতাউর রহমান ও হাসান নামের ব্যক্তিরা ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছে।

আইডিয়াল স্কুলের সামনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবুল জানান, চাঁদা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাঁর দোকানটি দেড় লাখ টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানালে উল্টো অস্ত্র প্রদর্শন করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে সাধারণ হকার ও ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

​এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি কাফরুল এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম নামের এক সহযোগী বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার হলেও নেপথ্যের মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

​প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর মামলা ও হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে সাংবাদিক দুলাল বিশ্বাসের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মিরপুরের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানান তাঁরা।

জনপ্রিয়

মোবাইল চুরির অপবাদে ব্যক্তিকে গণপিটুনি: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার তীব্র ক্ষোভ

error: Content is protected !!

ফুটপাত বাণিজ্যের নেপথ্যে পুরোনো চাঁদাবাজরাই: সাংবাদিককে ফাঁসিয়ে রাজত্ব টিকিয়ে রাখার অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০২:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাপ্তাহিক ‘তথ্য বিচিত্রা’র সাংবাদিক দুলাল বিশ্বাসকে ‘মব’ সৃষ্টি করে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মিরপুরের ফুটপাতে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের তথ্য প্রকাশ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রাজধানীর মিরপুরের ফুটপাত চাঁদাবাজির দৃশ্যপট বদলায়নি। ৫ আগস্টের পর নতুন সমীকরণে পুরোনো চাঁদাবাজরাই পর্দার আড়াল থেকে ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এবং রাজনৈতিক খোলস পাল্টে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে প্রকাশ্যে চলছে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পরদিনই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিরপুর-১০, ফায়ার সার্ভিস মোড়, আইডিয়াল স্কুল, হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ওয়াসা মোড় সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাতে কয়েক হাজার অবৈধ দোকান বসানো হয়েছে। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়।

​আইডিয়াল ও হোপ স্কুলের সামনে বসা প্রায় চার শতাধিক দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং মাস শেষে দোকানপ্রতি ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। কেবল হোপ স্কুলের সামনের প্রায় ৭০০ দোকান থেকেই মাসিক চাঁদা তোলা হয় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া ফুটপাতের ‘পজিশন’ কেনাবেচা ও অগ্রিম জামানতের নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এককালীন লাখ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, বিগত সরকারের আমলে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ছত্রছায়ায় থাকা চক্রটিই এখন খোলস পাল্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ताज ও আব্বাসের নামে পর্দার অন্তরালে থেকে চাঁদা আদায় করছে সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম মামুন, শাহীনূর ইসলাম জীবন এবং স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নজু মাদবর চক্র। চাঁদা আদায় ও তদারকির জন্য ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে সাদ্দাম, শহিদ, বাপ্পি, মুরসালিন, মোক্তার, রনি, জাপান, এরশাদ, পারভেজ ও সাকিবের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ব্যবসায়ী পরিচয়ের আড়ালে রাসেল, কাওসার, আতাউর রহমান ও হাসান নামের ব্যক্তিরা ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছে।

আইডিয়াল স্কুলের সামনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবুল জানান, চাঁদা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাঁর দোকানটি দেড় লাখ টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানালে উল্টো অস্ত্র প্রদর্শন করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে সাধারণ হকার ও ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

​এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি কাফরুল এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম নামের এক সহযোগী বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার হলেও নেপথ্যের মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

​প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর মামলা ও হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে সাংবাদিক দুলাল বিশ্বাসের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মিরপুরের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানান তাঁরা।