
নির্বাচনী ঢোল বাজতে না বাজতেই যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে বইতে শুরু করেছে উত্তপ্ত রাজনীতির হাওয়া। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলম মণ্ডলের নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ভাটিয়াপাড়াসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘটা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দোয়া ও সমর্থন চেয়ে সম্প্রতি এলাকায় ব্যাপক পোস্টারিং করেন শাহ আলম মণ্ডল। ওই পোস্টারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগ সাইদী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকারের ছবি স্থান পায়। কিন্তু সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা একের পর এক সেই পোস্টারগুলো ছিঁড়ে গুঁড়িয়ে দেয়।
প্রকাশ্যে প্রতিযোগিতা না করে এভাবে রাতের আঁধারে পোস্টার নষ্টের অপচেষ্টাকে ‘হীন রাজনৈতিক মানসিকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাদের মতে, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকবেই, কিন্তু পোস্টার ছিঁড়ে এলাকায় উসকানি ও অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।
ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলম মণ্ডল বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী সমর্থন চেয়ে পোস্টার লাগিয়েছিলাম। কিন্তু কাপুরুষের মতো রাতের আঁধারে তা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমি এই নোংরা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে ঘটনাটিকে হালকাভাবে দেখছে না স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব। কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান সোহাগ সাইদী বলেন, “রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু নোংরামি নয়। রাতের আঁধারে যারা এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে চরম শাস্তির আওতায় আনা হবে। চরের শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার কোনো চক্রান্তই বরদাশত করা হবে না।”
কারা বা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এ ঘটনার পেছনে সক্রিয়, তা এখনও স্পষ্ট নয় এবং এ বিষয়ে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা না পড়লেও চরাঞ্চলে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে প্রশাসন ও দায়িত্বশীলদের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








