বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই কি গাইবান্ধার ‘অবৈধ বাণিজ্য মেলা’? সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারীদের সঙ্গে আপসের পায়তারা, ফুঁসে উঠেছে সুধী সমাজ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৮:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় কথিত অবৈধ বাণিজ্য মেলার ভেতরের নানা অসামাজিক কার্যকলাপ, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নজিরবিহীন যানজটের তথ্য সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি মাসুম লুমেনের ওপর মেলা কমিটির চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার পরও বন্ধ হয়নি মেলার কার্যক্রম। বরং অভিযোগ উঠেছে, এক অদৃশ্য ক্ষমতার ইশারায় অবৈধ এই মেলার কার্যক্রম চালু রেখে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা ও আপসের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে একটি মহল। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সুধী সমাজ ও সাংবাদিক মহলে।

​সুধী সমাজের স্পষ্ট বক্তব্য, সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলা এবং প্রকাশ্য রাস্তায় রক্তাক্ত করার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাকে ‘আপস বা মীমাংসা’ করার চেষ্টা মানে অপরাধীদের সরাসরি প্রশ্রয় দেওয়া। এটি পরোক্ষভাবে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনা করার অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার শামিল। কোনো অবস্থাতেই এই আপসের নামে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ মেলা চিরতরে বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ সময়ে এমনিতে কেনাকাটা ও উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো গাইবান্ধা শহরে যানজট ও মানুষের ভিড় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এই অবৈধ মেলার কারণে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো দিন-রাত স্থবির হয়ে থাকছে। তীব্র যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল যেখানে দায় হয়ে পড়েছে, সেখানে স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

​ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন—উৎসবের এই মওসুমে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীদের ‘গলায় ছুরি চালিয়ে’ এবং তাদের পেটে লাথি মেরে কোন স্বার্থে প্রশাসন এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এই অবৈধ মেলার কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে? এটি কি কেবলই নিজেদের পকেট ভারী করা এবং অবৈধ সুবিধা ভোগ করার কোনো গভীর ধান্দা নয়?

​সাংবাদিক মাসুম লুমেনের ওপর হামলার ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মেলাকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী বাহিনী কীভাবে জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডিসি ও এসপিকে অবমাননা করে দম্ভোক্তি করছে। এমন গুরুতর ঘটনার পরও অবৈধ মেলার মালিক মন্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মেলা সচল রাখার চেষ্টা প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

​অবিলম্বে এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অপরাধের আখড়ায় পরিণত হওয়া অবৈধ বাণিজ্য মেলা বন্ধ করা না হলে এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার নেপথ্যের কারিগরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা হলে সুধী সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা যৌথভাবে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই কি গাইবান্ধার ‘অবৈধ বাণিজ্য মেলা’? সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারীদের সঙ্গে আপসের পায়তারা, ফুঁসে উঠেছে সুধী সমাজ

error: Content is protected !!

প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই কি গাইবান্ধার ‘অবৈধ বাণিজ্য মেলা’? সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারীদের সঙ্গে আপসের পায়তারা, ফুঁসে উঠেছে সুধী সমাজ

প্রকাশের সময়: ০৮:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধায় কথিত অবৈধ বাণিজ্য মেলার ভেতরের নানা অসামাজিক কার্যকলাপ, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নজিরবিহীন যানজটের তথ্য সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি মাসুম লুমেনের ওপর মেলা কমিটির চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার পরও বন্ধ হয়নি মেলার কার্যক্রম। বরং অভিযোগ উঠেছে, এক অদৃশ্য ক্ষমতার ইশারায় অবৈধ এই মেলার কার্যক্রম চালু রেখে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা ও আপসের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে একটি মহল। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সুধী সমাজ ও সাংবাদিক মহলে।

​সুধী সমাজের স্পষ্ট বক্তব্য, সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলা এবং প্রকাশ্য রাস্তায় রক্তাক্ত করার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাকে ‘আপস বা মীমাংসা’ করার চেষ্টা মানে অপরাধীদের সরাসরি প্রশ্রয় দেওয়া। এটি পরোক্ষভাবে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনা করার অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার শামিল। কোনো অবস্থাতেই এই আপসের নামে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ মেলা চিরতরে বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ সময়ে এমনিতে কেনাকাটা ও উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো গাইবান্ধা শহরে যানজট ও মানুষের ভিড় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এই অবৈধ মেলার কারণে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো দিন-রাত স্থবির হয়ে থাকছে। তীব্র যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল যেখানে দায় হয়ে পড়েছে, সেখানে স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

​ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন—উৎসবের এই মওসুমে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীদের ‘গলায় ছুরি চালিয়ে’ এবং তাদের পেটে লাথি মেরে কোন স্বার্থে প্রশাসন এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এই অবৈধ মেলার কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে? এটি কি কেবলই নিজেদের পকেট ভারী করা এবং অবৈধ সুবিধা ভোগ করার কোনো গভীর ধান্দা নয়?

​সাংবাদিক মাসুম লুমেনের ওপর হামলার ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মেলাকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী বাহিনী কীভাবে জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডিসি ও এসপিকে অবমাননা করে দম্ভোক্তি করছে। এমন গুরুতর ঘটনার পরও অবৈধ মেলার মালিক মন্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মেলা সচল রাখার চেষ্টা প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

​অবিলম্বে এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অপরাধের আখড়ায় পরিণত হওয়া অবৈধ বাণিজ্য মেলা বন্ধ করা না হলে এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার নেপথ্যের কারিগরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা হলে সুধী সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা যৌথভাবে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।