বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলছড়িতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও বাণিজ্যের অভিযোগ, তালিকায় আ.লীগ-জাপার নেতাকর্মীরাও!

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খোদ স্থানীয় বিএনপির নেতারাই পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অভিযোগ তুলেছেন—নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এক প্রভাবশালী মহলের ইশারায় তৈরি করা হয়েছে এই গোপন তালিকা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলছড়ির ৭টি ইউনিয়নে একজন করে মোট ৭ জন সার ডিলার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে ১১৫ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যবসায়ীদের নাম পাঠানোর কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে ১১৫ জনের মধ্য থেকে মাত্র ২১ জনের নাম (প্রতি ইউনিয়নের জন্য ৩ জন) জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই বাছাইপ্রক্রিয়ায় সরকারি নীতিমালা ও যোগ্যতার কোনো বালাই ছিল না।

​সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তালিকার রাজনৈতিক ভারসাম্য ও আবেদনকারীদের অতীত পরিচয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সরাসরি অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা ও গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) সক্রিয় নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও এই ২১ জনের তালিকায় অগ্রাধিকার দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

​স্থানীয় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলে বলছেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও যদি স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করতে হয় এবং যোগ্য সাধারণ আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া হয়, তবে এই নিয়োগের স্বচ্ছতা কোথায়? নীতিমালার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক পরিচয় ও গোপন আঁতাতের মাধ্যমে তালিকা করায় যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

​সার ডিলার নিয়োগের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির খবরে ক্ষোভে ফুঁসছেন ফুলছড়ির কৃষক ও সাধারণ আবেদনকারীরা। ইতোমধ্যে প্রেরিত এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, গোডাউন সুবিধা ও আর্থিক সক্ষমতা জনসমক্ষে যাচাইয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় তালিকা প্রণয়নের জোর দাবি উঠেছে। অন্যথায় এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

ফুলছড়িতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও বাণিজ্যের অভিযোগ, তালিকায় আ.লীগ-জাপার নেতাকর্মীরাও!

error: Content is protected !!

ফুলছড়িতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও বাণিজ্যের অভিযোগ, তালিকায় আ.লীগ-জাপার নেতাকর্মীরাও!

প্রকাশের সময়: ০৪:১৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খোদ স্থানীয় বিএনপির নেতারাই পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অভিযোগ তুলেছেন—নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এক প্রভাবশালী মহলের ইশারায় তৈরি করা হয়েছে এই গোপন তালিকা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলছড়ির ৭টি ইউনিয়নে একজন করে মোট ৭ জন সার ডিলার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে ১১৫ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যবসায়ীদের নাম পাঠানোর কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে ১১৫ জনের মধ্য থেকে মাত্র ২১ জনের নাম (প্রতি ইউনিয়নের জন্য ৩ জন) জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই বাছাইপ্রক্রিয়ায় সরকারি নীতিমালা ও যোগ্যতার কোনো বালাই ছিল না।

​সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তালিকার রাজনৈতিক ভারসাম্য ও আবেদনকারীদের অতীত পরিচয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সরাসরি অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা ও গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) সক্রিয় নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও এই ২১ জনের তালিকায় অগ্রাধিকার দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

​স্থানীয় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলে বলছেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও যদি স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করতে হয় এবং যোগ্য সাধারণ আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া হয়, তবে এই নিয়োগের স্বচ্ছতা কোথায়? নীতিমালার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক পরিচয় ও গোপন আঁতাতের মাধ্যমে তালিকা করায় যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

​সার ডিলার নিয়োগের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির খবরে ক্ষোভে ফুঁসছেন ফুলছড়ির কৃষক ও সাধারণ আবেদনকারীরা। ইতোমধ্যে প্রেরিত এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, গোডাউন সুবিধা ও আর্থিক সক্ষমতা জনসমক্ষে যাচাইয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় তালিকা প্রণয়নের জোর দাবি উঠেছে। অন্যথায় এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।