শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই লাশ: বিয়ের সানাই থেমে গেল হাসপাতালে অবহেলায়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ১০:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

দরজায় তখন আলোকোজ্জ্বল তোরণ, উঠোনজুড়ে বরণডালা আর গায়ে হলুদের মিষ্টি সুবাস। রাত পোহালেই বরযাত্রী যাবে কনে বাড়ি। ঠিক সেই মুহূর্তে এক মুঠো বিষাদ এসে স্তব্ধ করে দিল দুটি পরিবারের উৎসব। যেখানে সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই স্বজনদের বুকফাটা কান্না। মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই লাশ হয়ে ফিরলেন বর আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২১)।

​নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে (ইইই) প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় হয়ে পাস করা মেধাবী এই তরুণ পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে। আনন্দঘন মুহূর্তগুলো এক নিমেষে রূপ নিল গভীর শোকে; গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া আর কনে বাড়ি—উভয় প্রান্তেই এখন নেমে এসেছে শ্মশানের নীরবতা।

​সৌমিকের একমাত্র বড় বোন শারমিন সুলতানার অভিযোগ, চিকিৎসার নামে চরম গাফিলতি ও অবহেলাই কেড়ে নিয়েছে তাঁর ভাইয়ের প্রাণ। ঢাকা থেকে এক মাস আগে বাড়ি ফেরা সৌমিক গত চার দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে শরীরের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে সকাল ৯টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতের বেসরকারি ‘মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। শারমিনের দাবি, মুমূর্ষু অবস্থায় দীর্ঘ চার ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর বেলা ১টার দিকে ডা. মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন।

​ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর বিকেলের দিকে সৌমিকের অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় পড়ে থাকলেও মেলেনি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসক যখন কাছে এলেন, ততক্ষণে জীবনের স্পন্দন থেমে গেছে সৌমিকের।

​বিয়ে উপলক্ষে আলোকমালায় সাজানো যে ঘরে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, সেই ঘরেই এখন বরের খাটিয়া। স্বজন ও প্রতিবেশীদের প্রশ্ন—একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণের এমন মর্মান্তিক পরিণতির দায় নেবে কে? অবহেলার এই নীরব চিকিৎসাব্যবস্থা আর কত পরিবারের উৎসবকে রূপ দেবে আজীবন কান্নায়?

জনপ্রিয়

মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই লাশ: বিয়ের সানাই থেমে গেল হাসপাতালে অবহেলায়

error: Content is protected !!

মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই লাশ: বিয়ের সানাই থেমে গেল হাসপাতালে অবহেলায়

প্রকাশের সময়: ১০:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দরজায় তখন আলোকোজ্জ্বল তোরণ, উঠোনজুড়ে বরণডালা আর গায়ে হলুদের মিষ্টি সুবাস। রাত পোহালেই বরযাত্রী যাবে কনে বাড়ি। ঠিক সেই মুহূর্তে এক মুঠো বিষাদ এসে স্তব্ধ করে দিল দুটি পরিবারের উৎসব। যেখানে সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই স্বজনদের বুকফাটা কান্না। মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই লাশ হয়ে ফিরলেন বর আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২১)।

​নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে (ইইই) প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় হয়ে পাস করা মেধাবী এই তরুণ পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে। আনন্দঘন মুহূর্তগুলো এক নিমেষে রূপ নিল গভীর শোকে; গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া আর কনে বাড়ি—উভয় প্রান্তেই এখন নেমে এসেছে শ্মশানের নীরবতা।

​সৌমিকের একমাত্র বড় বোন শারমিন সুলতানার অভিযোগ, চিকিৎসার নামে চরম গাফিলতি ও অবহেলাই কেড়ে নিয়েছে তাঁর ভাইয়ের প্রাণ। ঢাকা থেকে এক মাস আগে বাড়ি ফেরা সৌমিক গত চার দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে শরীরের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে সকাল ৯টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতের বেসরকারি ‘মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। শারমিনের দাবি, মুমূর্ষু অবস্থায় দীর্ঘ চার ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর বেলা ১টার দিকে ডা. মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন।

​ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর বিকেলের দিকে সৌমিকের অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় পড়ে থাকলেও মেলেনি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসক যখন কাছে এলেন, ততক্ষণে জীবনের স্পন্দন থেমে গেছে সৌমিকের।

​বিয়ে উপলক্ষে আলোকমালায় সাজানো যে ঘরে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, সেই ঘরেই এখন বরের খাটিয়া। স্বজন ও প্রতিবেশীদের প্রশ্ন—একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণের এমন মর্মান্তিক পরিণতির দায় নেবে কে? অবহেলার এই নীরব চিকিৎসাব্যবস্থা আর কত পরিবারের উৎসবকে রূপ দেবে আজীবন কান্নায়?