রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় পড়েন ছাত্র, গাইবান্ধায় পেলেন সার ডিলারশিপ: তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ!

কোন আয় বা ব্যবসা নেই, থাকেন ঢাকায় স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে—এমন এক তরুণকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গোডাউন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ‘মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মোসাইয়ুব পিয়াসকে ডিলারশিপ পাইয়ে দিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা অসত্য প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্য আবেদনকারীরা।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে এমন স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অন্যান্য আবেদনকারীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সার ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা একাডেমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির সম্পূর্ণ অনিয়ম ও ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাব খাঁটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিবেদন জমা দিয়ে নিজের স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন।

​অনুসন্ধান ও আবেদনকারীদের অভিযোগে প্রকাশ, প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্স’-এর নিজস্ব কোনো সার সংরক্ষণের গোডাউন নেই এবং পূর্বেও ছিল না। আবেদনে যে স্থানটিকে গোডাউন হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তা মূলত একটি আবাসিক বাসাবাড়ির দুটি রুম মাত্র। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডিলারশিপ পাওয়ার পরই কেবল আবেদনে উল্লেখিত স্থানে তড়িঘড়ি করে গোডাউন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়—যা ডিলার নিয়োগের নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।

​শুধু গোডাউন জালিয়াতিই নয়, মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্সের প্রোপাইটার আবদুল্লাহ আল মোসাইয়ুব পিয়াস মূলত ঢাকার একটি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ব্যবসায়িক কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও এবং বাস্তবে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্ত্বেও তাকে সার ডিলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো নিজস্ব আয় না থাকা সত্ত্বেও তার নামে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন এবং ট্রেড লাইসেন্স সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবেদনকারী লিপি রানী, সোবহান মন্ডল, শরিফুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান, বিকাশ সাহা, শীতল মিয়া, মোনারুল ও সাজ্জাদুল হক সরকারসহ অন্যান্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।

​সার ডিলার নিয়োগে এমন জালিয়াতি ও অসচ্ছতার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক ভুয়া ডিলারশিপ বাতিল করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জনপ্রিয়

ঢাকায় পড়েন ছাত্র, গাইবান্ধায় পেলেন সার ডিলারশিপ: তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ!

error: Content is protected !!

ঢাকায় পড়েন ছাত্র, গাইবান্ধায় পেলেন সার ডিলারশিপ: তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ!

প্রকাশের সময়: ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

কোন আয় বা ব্যবসা নেই, থাকেন ঢাকায় স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে—এমন এক তরুণকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গোডাউন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ‘মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মোসাইয়ুব পিয়াসকে ডিলারশিপ পাইয়ে দিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা অসত্য প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্য আবেদনকারীরা।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে এমন স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অন্যান্য আবেদনকারীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সার ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা একাডেমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির সম্পূর্ণ অনিয়ম ও ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাব খাঁটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিবেদন জমা দিয়ে নিজের স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন।

​অনুসন্ধান ও আবেদনকারীদের অভিযোগে প্রকাশ, প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্স’-এর নিজস্ব কোনো সার সংরক্ষণের গোডাউন নেই এবং পূর্বেও ছিল না। আবেদনে যে স্থানটিকে গোডাউন হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তা মূলত একটি আবাসিক বাসাবাড়ির দুটি রুম মাত্র। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডিলারশিপ পাওয়ার পরই কেবল আবেদনে উল্লেখিত স্থানে তড়িঘড়ি করে গোডাউন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়—যা ডিলার নিয়োগের নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।

​শুধু গোডাউন জালিয়াতিই নয়, মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্সের প্রোপাইটার আবদুল্লাহ আল মোসাইয়ুব পিয়াস মূলত ঢাকার একটি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ব্যবসায়িক কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও এবং বাস্তবে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্ত্বেও তাকে সার ডিলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো নিজস্ব আয় না থাকা সত্ত্বেও তার নামে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন এবং ট্রেড লাইসেন্স সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবেদনকারী লিপি রানী, সোবহান মন্ডল, শরিফুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান, বিকাশ সাহা, শীতল মিয়া, মোনারুল ও সাজ্জাদুল হক সরকারসহ অন্যান্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।

​সার ডিলার নিয়োগে এমন জালিয়াতি ও অসচ্ছতার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক ভুয়া ডিলারশিপ বাতিল করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।