মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ​কোচিং বাণিজ্য রমরমা: অর্ধেক লাভ সোজা প্রধান শিক্ষিকার ক্যাশ বাক্সে!

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর পুরোদমে চলছে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা বেগমের প্রত্যক্ষ মদদে ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের অর্ধেক ভাগাভাগির শর্তে স্থানীয় এক যুবক বিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে এই প্রাইভেট সেন্টার পরিচালনা করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

​সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত পাঠদান শেষে বিদ্যালয় ছুটি হলেও শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। স্থানীয় যুবক আব্দুল আউয়াল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে সরকারি শ্রেণিকক্ষেই কোচিং চালাচ্ছেন।

​উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এখানে নিয়মিত টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়ে আসছে।

​কোচিং পরিচালনার বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির মুখে একপর্যায়ে তিনি সত্যতা স্বীকার করে জানান, প্রধান শিক্ষিকার মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি শ্রেণিকক্ষে এই কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন।

​মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। পরে নানা প্রশ্নের মুখে সুর নরম করে দাবি করেন, তিনি ওই যুবককে কোচিং করাতে নিষেধ করেছিলেন। তবে সরকারি সম্পদ ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে বহিরাগত এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাণিজ্য চালালেও প্রধান শিক্ষিকা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জানাননি। কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ায় স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি মৌখিকভাবে অস্বীকারের ভান করলেও বাস্তবে এই আর্থিক সুবিধাভোগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রধান শিক্ষিকা অত্যন্ত অর্থলোভী ও বদমেজাজি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে ছুটির পর শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দেওয়ার মতো করে প্রাইভেট বাণিজ্য খুলে বসেছেন তিনি। স্থানীয়রা ইতিপূর্বে একাধিকবার এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও প্রধান শিক্ষিকা তাতে কর্ণপাত করেননি, উল্টো প্রতিবাদকারীদের ধমক দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন।

​সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন ও বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্যের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি শিক্ষাকা কে শো-কজ করবেন বলে জানান।

এর বাহিরেও অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা বেগম এবং অভিযুক্ত আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সুধী সমাজ।

জনপ্রিয়

শ্রমিক আন্দোলনে  জখম হওয়া গোবিন্দগঞ্জের তৌফিকের মৃত্যু: এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া

error: Content is protected !!

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ​কোচিং বাণিজ্য রমরমা: অর্ধেক লাভ সোজা প্রধান শিক্ষিকার ক্যাশ বাক্সে!

প্রকাশের সময়: ১২:৫৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর পুরোদমে চলছে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা বেগমের প্রত্যক্ষ মদদে ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের অর্ধেক ভাগাভাগির শর্তে স্থানীয় এক যুবক বিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে এই প্রাইভেট সেন্টার পরিচালনা করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

​সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত পাঠদান শেষে বিদ্যালয় ছুটি হলেও শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। স্থানীয় যুবক আব্দুল আউয়াল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে সরকারি শ্রেণিকক্ষেই কোচিং চালাচ্ছেন।

​উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এখানে নিয়মিত টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়ে আসছে।

​কোচিং পরিচালনার বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির মুখে একপর্যায়ে তিনি সত্যতা স্বীকার করে জানান, প্রধান শিক্ষিকার মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি শ্রেণিকক্ষে এই কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন।

​মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। পরে নানা প্রশ্নের মুখে সুর নরম করে দাবি করেন, তিনি ওই যুবককে কোচিং করাতে নিষেধ করেছিলেন। তবে সরকারি সম্পদ ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে বহিরাগত এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাণিজ্য চালালেও প্রধান শিক্ষিকা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জানাননি। কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ায় স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি মৌখিকভাবে অস্বীকারের ভান করলেও বাস্তবে এই আর্থিক সুবিধাভোগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রধান শিক্ষিকা অত্যন্ত অর্থলোভী ও বদমেজাজি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে ছুটির পর শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দেওয়ার মতো করে প্রাইভেট বাণিজ্য খুলে বসেছেন তিনি। স্থানীয়রা ইতিপূর্বে একাধিকবার এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও প্রধান শিক্ষিকা তাতে কর্ণপাত করেননি, উল্টো প্রতিবাদকারীদের ধমক দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন।

​সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন ও বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্যের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি শিক্ষাকা কে শো-কজ করবেন বলে জানান।

এর বাহিরেও অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা বেগম এবং অভিযুক্ত আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সুধী সমাজ।