
যিনি সাঁতার জানতেন দারুণভাবে, নদী যার চেনা প্রান্তর—সেই মানুষটিরই কিনা মৃত্যু হলো বাড়ির পাশের নদীর বুকসমান পানিতে! তাও আবার নিছক ভেসে থাকা এক লাশ হয়ে, যার দু’টি চোখ উপড়ানো এবং একটি কান ক্ষতবিক্ষত।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউনুস আল মুর্শেদের (৪৮) এমন নৃশংস ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্ক। শুক্রবার রাতে কাঁঠালিয়া গ্রামের পাশের লৌহজং নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুর্শেদ মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কাঁঠালিয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুর্শেদ নিয়মিত লৌহজং নদীতে ‘ধর্মজাল’ দিয়ে মাছ ধরতেন। শুক্রবার বিকেলেও সাধারণ দিনগুলোর মতো তিনি মাছ ধরতে নদীর ঘাটে যান। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি ঘরে না ফেরায় স্বজনরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে নদীর ঘাটের কাছেই পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার নিথর দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীনুর মিয়া জানান, “ধর্মজাল দিয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামার কোনো প্রয়োজনই হয় না, ঘাট থেকেই জাল ফেলা যায়। এমনকি সন্ধ্যার ঠিক কিছুক্ষণ আগেও অনেকে তাকে ঘাটে মাছ ধরতে দেখেছেন।”
মরদেহ উদ্ধারের পর উপস্থিত মানুষ থমকে যান তার বীভৎস অবস্থা দেখে। মুর্শেদের দু’টি চোখই ছিল উপড়ানো এবং একটি কান ছিল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান ছানু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “মুর্শেদ অত্যন্ত দক্ষ একজন সাঁতারু ছিলেন। সামান্য বুকসমান পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হতে পারে—এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে।
এক রহস্যময় ও বিভৎস অবস্থার সৃষ্টি হলেও পুলিশ এখনো লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শনিবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু—তদন্তের পরেই উন্মোচিত হবে লৌহজং নদীর ঘাটে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনার আসল রহস্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















