মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনজীবীদের মানববন্ধনে বাধা ও পিপি’র বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এবং অবশেষ ভুল বোঝাবুঝি অবসান

গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী-২০২৬ ব্যাচের উদ্যোগে বৈষম্যমূলক গঠনতন্ত্র বাতিল ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হট্টগোল এবং পিপি কতৃক এক নারী আইনজীবীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে পরবর্তীতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা সাপেক্ষে সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

​আজ আদালতের কার্যক্রম শেষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজানের কক্ষে নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এই সমাধান হয়।

​এর আগে বৈষম্যমূলক গঠনতন্ত্র বাতিল ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ২৬ ব্যাচের আইনজীবীরা। কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিগত সময় থেকে নবাগত আইনজীবীদের প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৮ মাস পূর্বে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেও বর্তমান এডহক কমিটি নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করে তাদের সাথে চরম বৈষম্য তৈরি করেছে। পূর্বের ২০২৪ ব্যাচসহ অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীরা যে সুযোগ-সুবিধা পেতেন, ২৬ ব্যাচের আইনজীবীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

​বক্তারা আরও জানান, এই বৈষম্যের বিষয়ে ইতিপূর্বে চারবার লিখিতভাবে বার অ্যাসোসিয়েশনকে জানানো হলেও কোনো কর্ণপাত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করেন।

​​মানববন্ধন চলাকালে এডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম গোলাম শহীদ রঞ্জু উপস্থিত হয়ে সমাধানের আশ্বাস দিলেও, পরবর্তীতে বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান সেখানে আসেন। বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের অভিযোগ, পিপি মিজানুর রহমান এসে এক নারী আইনজীবীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠে । এর জেরে নবীন আইনজীবীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা পিপি’র জনসম্মুখে নিঃশর্ত ক্ষমার দাবিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

​​ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ আদালতের কার্যক্রম শেষে পিপি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজানের কক্ষে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীদের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিছক একটি ভুল বোঝাবুঝি বলে চিহ্নিত হয় এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার অবসান ঘটে। এর ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

আইনজীবীদের মানববন্ধনে বাধা ও পিপি’র বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এবং অবশেষ ভুল বোঝাবুঝি অবসান

error: Content is protected !!

আইনজীবীদের মানববন্ধনে বাধা ও পিপি’র বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এবং অবশেষ ভুল বোঝাবুঝি অবসান

প্রকাশের সময়: ১০:৪৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী-২০২৬ ব্যাচের উদ্যোগে বৈষম্যমূলক গঠনতন্ত্র বাতিল ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হট্টগোল এবং পিপি কতৃক এক নারী আইনজীবীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে পরবর্তীতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা সাপেক্ষে সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

​আজ আদালতের কার্যক্রম শেষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজানের কক্ষে নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এই সমাধান হয়।

​এর আগে বৈষম্যমূলক গঠনতন্ত্র বাতিল ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ২৬ ব্যাচের আইনজীবীরা। কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিগত সময় থেকে নবাগত আইনজীবীদের প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৮ মাস পূর্বে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেও বর্তমান এডহক কমিটি নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করে তাদের সাথে চরম বৈষম্য তৈরি করেছে। পূর্বের ২০২৪ ব্যাচসহ অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীরা যে সুযোগ-সুবিধা পেতেন, ২৬ ব্যাচের আইনজীবীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

​বক্তারা আরও জানান, এই বৈষম্যের বিষয়ে ইতিপূর্বে চারবার লিখিতভাবে বার অ্যাসোসিয়েশনকে জানানো হলেও কোনো কর্ণপাত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করেন।

​​মানববন্ধন চলাকালে এডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম গোলাম শহীদ রঞ্জু উপস্থিত হয়ে সমাধানের আশ্বাস দিলেও, পরবর্তীতে বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান সেখানে আসেন। বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের অভিযোগ, পিপি মিজানুর রহমান এসে এক নারী আইনজীবীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠে । এর জেরে নবীন আইনজীবীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা পিপি’র জনসম্মুখে নিঃশর্ত ক্ষমার দাবিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

​​ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ আদালতের কার্যক্রম শেষে পিপি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজানের কক্ষে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীদের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিছক একটি ভুল বোঝাবুঝি বলে চিহ্নিত হয় এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার অবসান ঘটে। এর ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।