
কর্মকর্তা বদলি হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন প্রায় দুই বছর আগে। তবুও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর সরকারি বাংলোটি এখনো দখলে রেখেছেন এক বহিরাগত নারী। শুধু অবৈধ বসবাসই নয়, জেলা পরিষদের কতিপয় কর্মচারীর সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে সরকারি টাকায় কেনা মূল্যবান মালামাল পাচারের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ তালুকদার প্রায় দুই বছর আগে এখান থেকে অন্যত্র বদলি হন। নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থল ত্যাগের সাথে সাথেই সরকারি বাসভবন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রউফ তালুকদারের ‘কথিত স্ত্রী’ পরিচয় দিয়ে সুমি আক্তার নামের এক নারী জেলা শহরের সিভিল সার্জনের বাসভবন সংলগ্ন প্রধান নির্বাহীর সরকারি বাংলোটিতে দীর্ঘ দুই বছর ধরে জোরপূর্বক বসবাস করে আসছেন।
জেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো বৈধ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওই বাংলো দখলে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, বাংলোতে অবস্থানকালে জেলা পরিষদের একজন প্রকৌশলী এবং একজন কর্মচারির সাথে তার বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের প্রত্যক্ষ মদদ ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব খাটিয়ে তিনি বাংলোতে থাকা জেলা পরিষদের সরকারি অর্থায়নে কেনা মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল গোপনে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আজ বুধবার বিকেলে ট্রাকে উঠাতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, একজন বহিরাগত নারী কীভাবে বছরের পর বছর প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি বাংলো দখল করে রাখেন এবং সরকারি সম্পদ পাচারের দুঃসাহস দেখান—তা রীতিমতো রহস্যজনক। এর পেছনে দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সুবিধাভোগী চক্রটির গভীর যোগসাজশ রয়েছে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক ডা: ময়নুল হাসান সাদিক দেশের বাহিরে অবস্থান করায় তার মতামত নেয়া সম্ভব হয় নি।
প্রধান নির্বাহী ( ভারপ্রাপ্ত)বিপুল চন্দ্র দাসের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি দায়সারাভাবে জানান যদি কারো ব্যক্তিগত জিনিস থাকে তবে তা নিতে পারে।
তবে জেলা পরিষদের টাকায় কেনা কোন কিছু নিতে পারবেন না। এখানে প্রশ্ন থেকে যায় দুবছর আগে বদলী হওয়ার পর এতদিন পর কেন এবং সমুদয় মালামাল নেয়া হচ্ছে?
এবিষয়ে সাবেক সহকারি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন জেলা পরিষদের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাস ভবনে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে যাবতীয় মালামাল ক্রয় করা হয়েছে।
এসব মালামাল কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারির নেয়ার কোন সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাহীর কথিত স্ত্রী সুমি আকতারের সাথে
কথা বললে তিনি মায়া কান্না জড়িত কন্ঠে আমতা আমতা করে বলেন এসব তার নিজের ক্রয় করা, তবে এর স্বপক্ষে কোন উপযুক্ত প্রমান পেশ করতে পারেনি। এমনি তার স্বামী উপস্থিত নেই কেন জানতে চাইলেও কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সাধারণ কর্মচারীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলোটি অবৈধ দখলমুক্ত করা, সরকারি মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








