শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বপ্ন সুপারশপের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা: প্রভাবশালী মহলের দৌড়ঝাঁপ, সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের অপচেষ্টা

বিয়ের প্রলোভনে সহকর্মীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে নামিদামি ব্র্যান্ড ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের গাইবান্ধা শাখা ব্যবস্থাপক নাকিব চৌধুরীর (২৬) বিরুদ্ধে সদর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলা রুজু হলেও আসামীকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য (এমপি) পরিবার। এমনকি অপরাধের অকাট্য প্রমাণ নষ্ট করতে সুপারশপ কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দিতে চরম টালবাহানা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজের বিপরীতে অবস্থিত স্বপ্ন সুপারশপে চাকরির সুবাদে ভুক্তভোগী তরুণীর (২৫) সঙ্গে পরিচয় হয় ব্যবস্থাপক নাকিবের। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে নাকিব পলাশপাড়া শাখায় বদলি হলেও একই কৌশলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট রাতে পলাশপাড়া সুপারশপের ভেতরেই তরুণীকে ডেকে নিয়ে বিয়ের নামে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তরুণী বিয়ের দাবিতে অনড় থাকলে নাকিব সরাসরি তা অস্বীকার করে নানা টালবাহানা ও হুমকি-ধমকি শুরু করেন।

​কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী গত ৩০ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধন) ২০২০-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি (মামলা নং- ৪৮) রেকর্ড করে। অভিযুক্ত নাকিব চৌধুরী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার খলটিকর গ্রামের রায়হানের ছেলে। তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার পলাশপাড়া এলাকার ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

​এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই নগ্ন হস্তক্ষেপে মেতে উঠেছে স্থানীয় এক এমপি পরিবার। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আসামীকে গ্রেফতার থেকে বাঁচাতে পুলিশ প্রশাসনের ওপর নানাভাবে রাজনৈতিক চাপ ও তদবির চালানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ঘটনার দিনের স্পষ্ট প্রমাণ মিলবে যেখান থেকে, সেই সুপারশপের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করতে প্রকাশ্যেই অনিহা ও অসহযোগিতা দেখাচ্ছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

​গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ জানায়, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ কোনো মহলের চাপে নতি স্বীকার করবে না জানিয়ে দাবি করেছে, আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

স্বপ্ন সুপারশপের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা: প্রভাবশালী মহলের দৌড়ঝাঁপ, সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের অপচেষ্টা

error: Content is protected !!

স্বপ্ন সুপারশপের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা: প্রভাবশালী মহলের দৌড়ঝাঁপ, সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের অপচেষ্টা

প্রকাশের সময়: ০২:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের প্রলোভনে সহকর্মীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে নামিদামি ব্র্যান্ড ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের গাইবান্ধা শাখা ব্যবস্থাপক নাকিব চৌধুরীর (২৬) বিরুদ্ধে সদর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলা রুজু হলেও আসামীকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য (এমপি) পরিবার। এমনকি অপরাধের অকাট্য প্রমাণ নষ্ট করতে সুপারশপ কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দিতে চরম টালবাহানা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজের বিপরীতে অবস্থিত স্বপ্ন সুপারশপে চাকরির সুবাদে ভুক্তভোগী তরুণীর (২৫) সঙ্গে পরিচয় হয় ব্যবস্থাপক নাকিবের। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে নাকিব পলাশপাড়া শাখায় বদলি হলেও একই কৌশলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট রাতে পলাশপাড়া সুপারশপের ভেতরেই তরুণীকে ডেকে নিয়ে বিয়ের নামে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তরুণী বিয়ের দাবিতে অনড় থাকলে নাকিব সরাসরি তা অস্বীকার করে নানা টালবাহানা ও হুমকি-ধমকি শুরু করেন।

​কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী গত ৩০ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধন) ২০২০-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি (মামলা নং- ৪৮) রেকর্ড করে। অভিযুক্ত নাকিব চৌধুরী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার খলটিকর গ্রামের রায়হানের ছেলে। তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার পলাশপাড়া এলাকার ‘স্বপ্ন’ সুপারশপের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

​এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই নগ্ন হস্তক্ষেপে মেতে উঠেছে স্থানীয় এক এমপি পরিবার। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আসামীকে গ্রেফতার থেকে বাঁচাতে পুলিশ প্রশাসনের ওপর নানাভাবে রাজনৈতিক চাপ ও তদবির চালানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ঘটনার দিনের স্পষ্ট প্রমাণ মিলবে যেখান থেকে, সেই সুপারশপের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করতে প্রকাশ্যেই অনিহা ও অসহযোগিতা দেখাচ্ছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

​গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ জানায়, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ কোনো মহলের চাপে নতি স্বীকার করবে না জানিয়ে দাবি করেছে, আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।