
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীতে চলছে প্রকাশ্য লুটপাট ও হরিলুট। হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে সরকার যে চাল নামমাত্র মূল্যে দিচ্ছে, তা গরিবের পেটে না গিয়ে অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরাসরি চলে যাচ্ছে খোলাবাজার ও পাইকারি আড়তে। একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী ও প্রভাবশালী ভুয়া কার্ডধারীর দৌরাত্ম্যে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের মহৎ এ উদ্যোগ।

সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রিফাইতপুর এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারি সিলমোহরযুক্ত বস্তাভর্তি চাল প্রকাশ্যেই হাতবদল হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল বিতরণের স্থান থেকেই একটি চক্র তৎপর থাকে। কার্ডধারী কিছু অসাধু ব্যক্তি চাল তুলে সরাসরি তুলে দিচ্ছে দালাল ও পাইকারদের হাতে। এরপর রাতের আঁধারে কিংবা দিনদুপুরেই সেই চালের বস্তা চলে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারের মুদি দোকান কিংবা চালের আড়তে।

চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী জানান, যাদের আসলেই দু’বেলা আহার জোটে না, তারা তালিকায় নাম লেখাতে বছরের পর বছর ধরনা দিয়েও কার্ড পাননি। অথচ সচ্ছল ও ধান্দাবাজরা কার্ড বাগিয়ে নিয়ে নিয়মিত চাল তুলে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে পকেট ভারী করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—এসব অনিয়ম চোখের সামনে ঘটলেও রহস্যজনক কারণে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষ।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভর্তুকি দিয়ে পরিচালিত এই কর্মসূচি আজ কতিপয় অসাধু চক্রের উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মৌখিক সতর্কবার্তা নয়—অবিলম্বে বাদিয়াখালীর পুরো রেশন কার্ডের তালিকা পুনর্যাচাই করে ভুয়া কার্ড বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট, ডিলার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে খাদ্য আইনে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিলার পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে গরিবের হকের এই চাল চুরির মহোৎসব কোনোভাবেই থামবে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










