বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেজুলেশন-দরপত্র ছাড়াই মাদরাসার ঘর গায়েব! সুপারের বাড়িতে মিলল মাদরাসার ইট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৮:১৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার উঠল সেই সম্পদ ‘চুরি করে’ বা নিয়ম ভেঙে বিক্রির অভিযোগ। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসায় প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত, রেজুলেশন বা দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই একটি আধা-পাকা ভবন ভেঙে এর মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগের আঙুল প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আব্দুল লতিফের দিকে। এদিকে অভিযোগ খতিয়ে দেখে সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

​স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার প্রায় ২০ হাত দীর্ঘ একটি পুরোনো আধা-পাকা টিনশেড ঘর সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়। ঘরটির অবকাঠামো, উদ্ধারকৃত ইট ও টিনের আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকার বেশি। তবে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এই সম্পদ বিক্রির জন্য কোনো উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশন করা হয়নি। ভেঙে ফেলা মালামাল কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, আর সেই টাকা মাদরাসার তহবিলে আদৌ জমা হয়েছে কি না—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

​ঘটনার অনুসন্ধানে সরেজমিনে গিয়ে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। মাদরাসার ভবন ভাঙার ইট রহস্যজনকভাবে খুঁজে পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনুর বাড়ির উঠোনে।

​প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে অফিস সহকারী স্বীকার করেন, সুপারের অনুমতি নিয়েই তিনি ইটগুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু মাদরাসার সম্পদ সরকারি অনুমতি বা প্রক্রিয়াকরণ ছাড়া কীভাবে কর্মচারীর ব্যক্তিগত উঠোনে পৌঁছাল—এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার সুপার মো. আব্দুল লতিফ। তাঁর দাবি— “অফিস সহকারী বা নৈশপ্রহরী কেউ ইট-টিন নেননি। মালামাল মাদরাসার জায়গায় রাখা ছিল, সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন নিয়ে যেতে পারে।”

​সুপারের এই বক্তব্যের সঙ্গে অফিস সহকারীর উঠোনে ইট পাওয়ার বাস্তব চিত্র পুরোপুরি সাংঘর্ষিক, যা সুপারের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

​এ বিষয়ে কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতি ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এলাকাবাসীর দাবি একটি এমপিওভুক্ত মাদরাসার সম্পদ এভাবে হুট করে গায়েব হয়ে যেতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মালামাল বিক্রির স্বচ্ছ হিসাব বের করা হোক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জে ড্রেজিং সিন্ডিকেট: ব্রহ্মপুত্র গিলে খাচ্ছে বালুখেকোরা, তদন্ত চান স্থানীয়রা

error: Content is protected !!

রেজুলেশন-দরপত্র ছাড়াই মাদরাসার ঘর গায়েব! সুপারের বাড়িতে মিলল মাদরাসার ইট

প্রকাশের সময়: ০৮:১৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার উঠল সেই সম্পদ ‘চুরি করে’ বা নিয়ম ভেঙে বিক্রির অভিযোগ। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসায় প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত, রেজুলেশন বা দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই একটি আধা-পাকা ভবন ভেঙে এর মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগের আঙুল প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আব্দুল লতিফের দিকে। এদিকে অভিযোগ খতিয়ে দেখে সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

​স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার প্রায় ২০ হাত দীর্ঘ একটি পুরোনো আধা-পাকা টিনশেড ঘর সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়। ঘরটির অবকাঠামো, উদ্ধারকৃত ইট ও টিনের আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকার বেশি। তবে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এই সম্পদ বিক্রির জন্য কোনো উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশন করা হয়নি। ভেঙে ফেলা মালামাল কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, আর সেই টাকা মাদরাসার তহবিলে আদৌ জমা হয়েছে কি না—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

​ঘটনার অনুসন্ধানে সরেজমিনে গিয়ে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। মাদরাসার ভবন ভাঙার ইট রহস্যজনকভাবে খুঁজে পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনুর বাড়ির উঠোনে।

​প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে অফিস সহকারী স্বীকার করেন, সুপারের অনুমতি নিয়েই তিনি ইটগুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু মাদরাসার সম্পদ সরকারি অনুমতি বা প্রক্রিয়াকরণ ছাড়া কীভাবে কর্মচারীর ব্যক্তিগত উঠোনে পৌঁছাল—এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার সুপার মো. আব্দুল লতিফ। তাঁর দাবি— “অফিস সহকারী বা নৈশপ্রহরী কেউ ইট-টিন নেননি। মালামাল মাদরাসার জায়গায় রাখা ছিল, সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন নিয়ে যেতে পারে।”

​সুপারের এই বক্তব্যের সঙ্গে অফিস সহকারীর উঠোনে ইট পাওয়ার বাস্তব চিত্র পুরোপুরি সাংঘর্ষিক, যা সুপারের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

​এ বিষয়ে কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতি ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এলাকাবাসীর দাবি একটি এমপিওভুক্ত মাদরাসার সম্পদ এভাবে হুট করে গায়েব হয়ে যেতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মালামাল বিক্রির স্বচ্ছ হিসাব বের করা হোক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।