মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল আসামিকে ফাঁসিয়ে বিচার বিভাগকে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা! কাঠগড়ায় খোদ পুলিশ

গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. দুলাল হোসেনের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, অপেশাদার আচরণ এবং পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে ভুল পথে পরিচালিত করার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। নিরপরাধ মানুষকে সাজানো মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা এখন নিজেই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন।

​গাইবান্ধার ৬ষ্ঠ আদালত (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত)-এর সেসন মামলা নং- ৪৮৬/২০২১-এর একটি বিচারিক আদেশে পুলিশের এই নগ্ন অনিয়ম ও ভুলের জাল উন্মোচিত হয়েছে।

​আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার এজাহার ও চার্জশিটে হাজতবাসরত আসামি হিসেবে শ্রী আশিক বাসফোর (পিতা-শ্রী ভুট্টু বাসফোর)-এর নাম উল্লেখ থাকলেও, গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই  দুলাল হোসেন সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম ও পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে পিসিপ্রিয়ার (PPR) ছবি সংযুক্ত করেছেন। অথচ দরখাস্তকারী আসামির প্রকৃত নাম মোহাঃ আশিক মিয়া, পিতা-  আলাল মিয়া এবং তিনি সদর থানার স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত নাম-পরিচয়ের সঙ্গে এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদনের বর্ণনার কোনো মিলই নেই।

​পুলিশের এই ধরনের মনগড়া, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দাখিলের পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা আর্থিক লেনদেন রয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

বিচারকের অনুমতি ক্রমে বেঞ্চ সহকারি মারজিউল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  জানান এটি চরম অন্যায় তো বটেই তবে এখানে পুলিশের অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয় কতটা জড়িয়ে আছে সেটিও খতিয়ে দেখা উচিৎ।

আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলিশের এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় চরম ভুল বা নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

​পুলিশের এই অপরাধমূলক গাফিলতির বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে আমলে নিয়েছেন আদালত। আগামী ০৩ নভেম্বর তারিখে আসামির উপস্থিতিতে জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে পি.ডব্লিউ (P.W) ইস্যু করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এই ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ধৃতকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই  দুলাল হোসেন এবং গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  নাজমুল হুদা কে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই ভয়াবহ অসঙ্গতির বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জের মন্তব্য আনতে গেলে তিনি ক্যামেরা দেখা মাত্রই রুম থেকে বেরিয়ে যান।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে যারা এভাবে জালিয়াতি ও মিথ্যার আশ্রয় নেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

জনপ্রিয়

ভুল আসামিকে ফাঁসিয়ে বিচার বিভাগকে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা! কাঠগড়ায় খোদ পুলিশ

error: Content is protected !!

ভুল আসামিকে ফাঁসিয়ে বিচার বিভাগকে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা! কাঠগড়ায় খোদ পুলিশ

প্রকাশের সময়: ০৮:০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. দুলাল হোসেনের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, অপেশাদার আচরণ এবং পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে ভুল পথে পরিচালিত করার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। নিরপরাধ মানুষকে সাজানো মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা এখন নিজেই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন।

​গাইবান্ধার ৬ষ্ঠ আদালত (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত)-এর সেসন মামলা নং- ৪৮৬/২০২১-এর একটি বিচারিক আদেশে পুলিশের এই নগ্ন অনিয়ম ও ভুলের জাল উন্মোচিত হয়েছে।

​আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার এজাহার ও চার্জশিটে হাজতবাসরত আসামি হিসেবে শ্রী আশিক বাসফোর (পিতা-শ্রী ভুট্টু বাসফোর)-এর নাম উল্লেখ থাকলেও, গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই  দুলাল হোসেন সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম ও পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে পিসিপ্রিয়ার (PPR) ছবি সংযুক্ত করেছেন। অথচ দরখাস্তকারী আসামির প্রকৃত নাম মোহাঃ আশিক মিয়া, পিতা-  আলাল মিয়া এবং তিনি সদর থানার স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত নাম-পরিচয়ের সঙ্গে এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদনের বর্ণনার কোনো মিলই নেই।

​পুলিশের এই ধরনের মনগড়া, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দাখিলের পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা আর্থিক লেনদেন রয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

বিচারকের অনুমতি ক্রমে বেঞ্চ সহকারি মারজিউল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  জানান এটি চরম অন্যায় তো বটেই তবে এখানে পুলিশের অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয় কতটা জড়িয়ে আছে সেটিও খতিয়ে দেখা উচিৎ।

আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলিশের এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় চরম ভুল বা নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

​পুলিশের এই অপরাধমূলক গাফিলতির বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে আমলে নিয়েছেন আদালত। আগামী ০৩ নভেম্বর তারিখে আসামির উপস্থিতিতে জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে পি.ডব্লিউ (P.W) ইস্যু করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এই ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ধৃতকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই  দুলাল হোসেন এবং গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  নাজমুল হুদা কে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই ভয়াবহ অসঙ্গতির বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জের মন্তব্য আনতে গেলে তিনি ক্যামেরা দেখা মাত্রই রুম থেকে বেরিয়ে যান।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে যারা এভাবে জালিয়াতি ও মিথ্যার আশ্রয় নেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।