সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার মিনিটে ৩ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়  আ.লীগ নেতা আনিছুর গ্রেফতার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৭:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

ভোরের আলো ফোটার আগেই মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে পরপর তিনটি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। স্লোগান ওঠে ‘জয় বাংলা’। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় শান্তিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

​গ্রেফতার আনিছুর রহমান উপজেলার পাঁচগাছি শান্তিরাম গ্রামের মৃত আবর উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে।

​মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত তখন ৪টা ২৬ মিনিট। সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাড়ির সামনে প্রথম ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটে। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৪টা ২৮ মিনিটে দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার মিনিটের সেই তাণ্ডবে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং বিস্ফোরণের পরপরই নেপথ্য থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ভেসে আসে। ভোররাতের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

​এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতে সুন্দরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক প্রস্তুত, বিস্ফোরণ ঘটানো এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা এই মামলায় ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

​সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

মসজিদের ভেতর সোফা-টেবিল পেতে এমপি,র কর্মসূচি, নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

error: Content is protected !!

চার মিনিটে ৩ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়  আ.লীগ নেতা আনিছুর গ্রেফতার

প্রকাশের সময়: ০৭:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোরের আলো ফোটার আগেই মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে পরপর তিনটি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। স্লোগান ওঠে ‘জয় বাংলা’। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় শান্তিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

​গ্রেফতার আনিছুর রহমান উপজেলার পাঁচগাছি শান্তিরাম গ্রামের মৃত আবর উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে।

​মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত তখন ৪টা ২৬ মিনিট। সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাড়ির সামনে প্রথম ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটে। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৪টা ২৮ মিনিটে দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার মিনিটের সেই তাণ্ডবে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং বিস্ফোরণের পরপরই নেপথ্য থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ভেসে আসে। ভোররাতের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

​এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতে সুন্দরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক প্রস্তুত, বিস্ফোরণ ঘটানো এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা এই মামলায় ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

​সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।