শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঘাটায় প্রবাসীর প্রায় ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: উল্টো অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ

​গাইবান্ধার সাঘাটায় এক প্রবাসীর জমি ভরাট ও ধার বাবদ নেওয়া প্রায় ১৬ লাখ টাকা ও দুটি মোটরসাইকেল আত্মসাতের ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে উল্টো মিথ্যা ছিনতাই ও অস্ত্রবাজির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে আনিসুর রহমান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা চাওয়ায় উল্টো ৬ জনকে আসামি করে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সাংবাদিক জামাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

​লিখিত বক্তব্যে সাঘাটার যাদুর তাইড় গ্রামের শামছুল আলম মিল্টন অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর বড় ভাই শরিফুল আশরাফ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত। বিদেশে থাকার সুযোগে তাঁর স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জায়গা-জমির যাবতীয় দায়িত্ব তিনি বিশ্বস্ততার সাথে দেখাশোনা করে আসছেন। এই সুযোগে স্থানীয় ধূর্ত আনিসুর রহমান চৌধুরী প্রবাসীর সাথে চরম আর্থিক প্রতারণার জাল বিস্তার করে।

​অভিযোগে প্রকাশ, ২০২৪ সালে আনিসুর রহমান চৌধুরী ৮৪ শতকের একটি পুকুর ভরাটের জন্য মাটি কাটার চুক্তি করে বিভিন্ন ধাপে শরিফুল আশরাফ চৌধুরীর কাছ থেকে নগদ মোট ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া প্রভাব ও সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শরিফুল চৌধুরীর ব্যবহৃত ডিসকভার ১৩৫ সিসি মোটরসাইকেল এবং আনিসুরের ভাগ্নে এলিন একটি পালসার NS-160 মোটরসাইকেলসহ মোটা অঙ্কের টাকা ধার নেয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার ৮০০ টাকা।

​পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী মাটি ভরাট না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা শুরু করে আনিসুর চক্র। দীর্ঘ দেন-দরবারের পর লোকলজ্জার ভয়ে ভাগ্নে এলিন মাত্র ১ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি টাকা ও মোটরসাইকেল দুটি ফেরত দেয়নি। উপরন্তু, শরিফুল চৌধুরীর ড়নিজস্ব জমি বিক্রিতে দফায় দফায় বাধা প্রদান এবং জমি বিক্রি করতে হলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল আনিসুর রহমান।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে মিল্টন জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে স্থানীয় ‘চৌধুরী গেট’-এর সামনে আনিসুর রহমানকে পেয়ে পাওনা টাকা ও মোটরসাইকেল ফেরতের বিষয়ে সামনাসামনি বসার অনুরোধ জানান তিনি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আনিসুর চরম দুর্ব্যবহার শুরু করে। টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পাওনা নিশ্চিত করতে আনিসুরের ব্যবহৃত বাইকের চাবি আটকে রাখা হলে সে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে— “কাগজ আমার নামে, তোদের নামে ছিনতাই মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করব, এক টাকাও পাবি না।”

​লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, নিজের প্রতারণা ও বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ঢাকতে আনিসুর চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে থানায় গিয়ে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করে, যাতে মিল্টনসহ ৬ জন নিরীহ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। শুধু তা-ই নয়, আনিসুর তার বড় মেয়ের জামাইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন’সহ একাধিক মাধ্যমে “অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই”-এর মতো কাল্পনিক ও মানহানিকর খবর প্রকাশ করায়।

​ভুক্তভোগী শামছুল আলম মিল্টন বলেন, “কোনো অস্ত্র প্রদর্শন বা ছিনতাইয়ের প্রশ্নই ওঠে না। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমাদের কোটি টাকার সম্মানহানি করতে এবং প্রবাসীর রক্ত পানি করা অর্থ গ্রাস করতেই এমন নাটক সাজানো হয়েছে। আমরা এই সাজানো মামলা ও হলুদ সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

​সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধরনের জঘন্য প্রতারণা ও মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে অবিলম্বে প্রতারক চক্রের কাছ থেকে প্রবাসীর পাওনা অর্থ ও মোটরসাইকেল উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

 

​

জনপ্রিয়

ভোটের আগেই চরে রাজনীতির পারদ: ফুলছড়িতে বিএনপি নেতার পোস্টার ছেঁড়াকে ঘিরে তোলপাড়

error: Content is protected !!

সাঘাটায় প্রবাসীর প্রায় ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: উল্টো অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৫:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

​গাইবান্ধার সাঘাটায় এক প্রবাসীর জমি ভরাট ও ধার বাবদ নেওয়া প্রায় ১৬ লাখ টাকা ও দুটি মোটরসাইকেল আত্মসাতের ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে উল্টো মিথ্যা ছিনতাই ও অস্ত্রবাজির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে আনিসুর রহমান চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা চাওয়ায় উল্টো ৬ জনকে আসামি করে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সাংবাদিক জামাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

​লিখিত বক্তব্যে সাঘাটার যাদুর তাইড় গ্রামের শামছুল আলম মিল্টন অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর বড় ভাই শরিফুল আশরাফ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত। বিদেশে থাকার সুযোগে তাঁর স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জায়গা-জমির যাবতীয় দায়িত্ব তিনি বিশ্বস্ততার সাথে দেখাশোনা করে আসছেন। এই সুযোগে স্থানীয় ধূর্ত আনিসুর রহমান চৌধুরী প্রবাসীর সাথে চরম আর্থিক প্রতারণার জাল বিস্তার করে।

​অভিযোগে প্রকাশ, ২০২৪ সালে আনিসুর রহমান চৌধুরী ৮৪ শতকের একটি পুকুর ভরাটের জন্য মাটি কাটার চুক্তি করে বিভিন্ন ধাপে শরিফুল আশরাফ চৌধুরীর কাছ থেকে নগদ মোট ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া প্রভাব ও সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শরিফুল চৌধুরীর ব্যবহৃত ডিসকভার ১৩৫ সিসি মোটরসাইকেল এবং আনিসুরের ভাগ্নে এলিন একটি পালসার NS-160 মোটরসাইকেলসহ মোটা অঙ্কের টাকা ধার নেয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার ৮০০ টাকা।

​পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী মাটি ভরাট না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা শুরু করে আনিসুর চক্র। দীর্ঘ দেন-দরবারের পর লোকলজ্জার ভয়ে ভাগ্নে এলিন মাত্র ১ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি টাকা ও মোটরসাইকেল দুটি ফেরত দেয়নি। উপরন্তু, শরিফুল চৌধুরীর ড়নিজস্ব জমি বিক্রিতে দফায় দফায় বাধা প্রদান এবং জমি বিক্রি করতে হলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল আনিসুর রহমান।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে মিল্টন জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে স্থানীয় ‘চৌধুরী গেট’-এর সামনে আনিসুর রহমানকে পেয়ে পাওনা টাকা ও মোটরসাইকেল ফেরতের বিষয়ে সামনাসামনি বসার অনুরোধ জানান তিনি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আনিসুর চরম দুর্ব্যবহার শুরু করে। টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পাওনা নিশ্চিত করতে আনিসুরের ব্যবহৃত বাইকের চাবি আটকে রাখা হলে সে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে— “কাগজ আমার নামে, তোদের নামে ছিনতাই মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করব, এক টাকাও পাবি না।”

​লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, নিজের প্রতারণা ও বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ঢাকতে আনিসুর চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে থানায় গিয়ে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করে, যাতে মিল্টনসহ ৬ জন নিরীহ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। শুধু তা-ই নয়, আনিসুর তার বড় মেয়ের জামাইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন’সহ একাধিক মাধ্যমে “অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই”-এর মতো কাল্পনিক ও মানহানিকর খবর প্রকাশ করায়।

​ভুক্তভোগী শামছুল আলম মিল্টন বলেন, “কোনো অস্ত্র প্রদর্শন বা ছিনতাইয়ের প্রশ্নই ওঠে না। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমাদের কোটি টাকার সম্মানহানি করতে এবং প্রবাসীর রক্ত পানি করা অর্থ গ্রাস করতেই এমন নাটক সাজানো হয়েছে। আমরা এই সাজানো মামলা ও হলুদ সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

​সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধরনের জঘন্য প্রতারণা ও মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে অবিলম্বে প্রতারক চক্রের কাছ থেকে প্রবাসীর পাওনা অর্থ ও মোটরসাইকেল উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

 

​