রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে যুবককে জিম্মি করে যুবদল-শ্রমিক দল নেতাদের ৩ লাখ টাকা ছিনতাই: ওসিকে জড়িয়ে অডিও ফাঁসে তোলপাড়!

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও শ্রমিক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনৈতিক এই অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জড়িয়ে একটি কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগাছা থানার নেকমামুন ইউনিয়নের পূর্ব দেবু গ্রামের মৃত জাফর মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদেরকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে নিয়ে আসা হয়। এরপর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড লালসালা গ্রামের  জহুর উদ্দিনের মেয়ে পারভিন বেগমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে পুঁজি করে আব্দুল কাদেরকে জিম্মি করা হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, অপহরণ ও টাকা আদায়ের পুরো ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারী তারাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফুল মিয়া ওরফে ফুলু ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহাসেন মিয়া। এই তিন নেতা যোগসাজশ করে আব্দুল কাদেরকে আটকে রেখে দফায় দফায় চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে আব্দুল কাদেরের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি।

​ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়ে পড়ে। ওই কল রেকর্ডে ফুলু ফকির ও পারভিন বেগমের বাবার মধ্যকার কথোপকথনে স্পষ্ট শোনা যায়—টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মহোদয়কেও এর সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ বাণিজ্যের ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টুর সাথে কথা বললে তিনি স্পষ্ট জানান কোন অপরাধীর স্থান আমাদের দলে হবে না এ বিষয়ে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করব।

বিষয়টি নিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারি নাম্বারে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

​এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক পদ-পদবি ব্যবহার করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে অভিযুক্ত ফুলু ফকির, আবু রায়হান ও মহাসেন মিয়াসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

জনপ্রিয়

১৫ বছর নামমাত্র বেতনে খেটেও শূন্য হাত: হরিজন নারীকে হটিয়ে কলেজে লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য!

error: Content is protected !!

সুন্দরগঞ্জে যুবককে জিম্মি করে যুবদল-শ্রমিক দল নেতাদের ৩ লাখ টাকা ছিনতাই: ওসিকে জড়িয়ে অডিও ফাঁসে তোলপাড়!

প্রকাশের সময়: ০৩:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও শ্রমিক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনৈতিক এই অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জড়িয়ে একটি কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগাছা থানার নেকমামুন ইউনিয়নের পূর্ব দেবু গ্রামের মৃত জাফর মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদেরকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে নিয়ে আসা হয়। এরপর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড লালসালা গ্রামের  জহুর উদ্দিনের মেয়ে পারভিন বেগমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে পুঁজি করে আব্দুল কাদেরকে জিম্মি করা হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, অপহরণ ও টাকা আদায়ের পুরো ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারী তারাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফুল মিয়া ওরফে ফুলু ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহাসেন মিয়া। এই তিন নেতা যোগসাজশ করে আব্দুল কাদেরকে আটকে রেখে দফায় দফায় চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে আব্দুল কাদেরের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি।

​ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়ে পড়ে। ওই কল রেকর্ডে ফুলু ফকির ও পারভিন বেগমের বাবার মধ্যকার কথোপকথনে স্পষ্ট শোনা যায়—টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মহোদয়কেও এর সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ বাণিজ্যের ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টুর সাথে কথা বললে তিনি স্পষ্ট জানান কোন অপরাধীর স্থান আমাদের দলে হবে না এ বিষয়ে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করব।

বিষয়টি নিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারি নাম্বারে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

​এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক পদ-পদবি ব্যবহার করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে অভিযুক্ত ফুলু ফকির, আবু রায়হান ও মহাসেন মিয়াসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।