রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছর নামমাত্র বেতনে খেটেও শূন্য হাত: হরিজন নারীকে হটিয়ে কলেজে লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য!

দেড় দশক ধরে এক বুক আশা নিয়ে কলেজের আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন, ঝাড়ু হাতে পার করেছেন জীবনের সোনালী সময়। কিন্তু স্থায়ী নিয়োগের সময় আসতেই সেই দীর্ঘ ১৫ বছরের ঘাম ও ত্যাগকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হলো। গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর কলেজে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে হরিজন সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র নারী লিলি রানীকে নির্মমভাবে ছুড়ে ফেলে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অন্যজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় এমন চরম অমানবিকতা ও দুর্নীতির ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও হরিজন সম্প্রদায়।
​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থতা সঙ্গী করেই দিনের পর দিন নামমাত্র নামকাওয়াস্তে বেতনে দাড়িয়াপুর কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছিলেন লিলি রানী। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—পদটি যখন এমপিওভুক্ত বা সরকারি বিধিমোতাবেক স্থায়ী হবে, তখন তার এই দীর্ঘ ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু পদটি স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হতেই পাল্টে যায় কর্তৃপক্ষের রূপ। চোখের পলকে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয় লিলি রানীর সঙ্গে।
​অভিযোগ উঠেছে, কলেজ পরিচালনা কমিটি ও নেপথ্যের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনৈতিক বাণিজ্যে মেতে ওঠে। লিলি রানীর দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও ন্যায্য অধিকারকে পদদলিত করে লাখ লাখ টাকার গোপন লেনদেনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন এক ব্যক্তিকে ওই পদে বসানো হয়েছে। অর্থের লোভের কাছে পরাজিত হয়েছে মানবিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা।
​হরিজন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি কেবল একজন লিলি রানীর সঙ্গে প্রতারণা নয়; দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমকে চরম তাচ্ছিল্য করার এক ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত। জীবনের ১৫টি বছর নিঃস্বার্থভাবে প্রতিষ্ঠানের সেবায় বিলিয়ে দেওয়ার পর এভাবে তাকে ছুড়ে ফেলা কোনো সভ্য প্রতিষ্ঠানের আচরণ হতে পারে না। এটি প্রকাশ্য নিয়োগ বাণিজ্য ও শ্রম শোষণের শামিল।
​বর্তমানে সুবিচারের আশায় দু’চোখে অশ্রু নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সর্বস্বান্ত লিলি রানী ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি পুরো রেজাল্টশিট পকেটে নিয়ে তাৎক্ষনিক স্থানীয় বিএনপি নেতার বাইকে চেপে কলেজ ত্যাগ করেন।
অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি এবং লিলি রানীকে তার প্রাপ্য পদে পুনর্বহালের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে এলাকাবাসী। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার ও হরিজন সংগঠনগুলো।
জনপ্রিয়

১৫ বছর নামমাত্র বেতনে খেটেও শূন্য হাত: হরিজন নারীকে হটিয়ে কলেজে লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য!

error: Content is protected !!

১৫ বছর নামমাত্র বেতনে খেটেও শূন্য হাত: হরিজন নারীকে হটিয়ে কলেজে লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য!

প্রকাশের সময়: ০৪:১৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
দেড় দশক ধরে এক বুক আশা নিয়ে কলেজের আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন, ঝাড়ু হাতে পার করেছেন জীবনের সোনালী সময়। কিন্তু স্থায়ী নিয়োগের সময় আসতেই সেই দীর্ঘ ১৫ বছরের ঘাম ও ত্যাগকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হলো। গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর কলেজে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে হরিজন সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র নারী লিলি রানীকে নির্মমভাবে ছুড়ে ফেলে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অন্যজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় এমন চরম অমানবিকতা ও দুর্নীতির ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও হরিজন সম্প্রদায়।
​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থতা সঙ্গী করেই দিনের পর দিন নামমাত্র নামকাওয়াস্তে বেতনে দাড়িয়াপুর কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছিলেন লিলি রানী। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—পদটি যখন এমপিওভুক্ত বা সরকারি বিধিমোতাবেক স্থায়ী হবে, তখন তার এই দীর্ঘ ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু পদটি স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হতেই পাল্টে যায় কর্তৃপক্ষের রূপ। চোখের পলকে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয় লিলি রানীর সঙ্গে।
​অভিযোগ উঠেছে, কলেজ পরিচালনা কমিটি ও নেপথ্যের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনৈতিক বাণিজ্যে মেতে ওঠে। লিলি রানীর দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও ন্যায্য অধিকারকে পদদলিত করে লাখ লাখ টাকার গোপন লেনদেনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন এক ব্যক্তিকে ওই পদে বসানো হয়েছে। অর্থের লোভের কাছে পরাজিত হয়েছে মানবিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা।
​হরিজন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি কেবল একজন লিলি রানীর সঙ্গে প্রতারণা নয়; দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমকে চরম তাচ্ছিল্য করার এক ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত। জীবনের ১৫টি বছর নিঃস্বার্থভাবে প্রতিষ্ঠানের সেবায় বিলিয়ে দেওয়ার পর এভাবে তাকে ছুড়ে ফেলা কোনো সভ্য প্রতিষ্ঠানের আচরণ হতে পারে না। এটি প্রকাশ্য নিয়োগ বাণিজ্য ও শ্রম শোষণের শামিল।
​বর্তমানে সুবিচারের আশায় দু’চোখে অশ্রু নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সর্বস্বান্ত লিলি রানী ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি পুরো রেজাল্টশিট পকেটে নিয়ে তাৎক্ষনিক স্থানীয় বিএনপি নেতার বাইকে চেপে কলেজ ত্যাগ করেন।
অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি এবং লিলি রানীকে তার প্রাপ্য পদে পুনর্বহালের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে এলাকাবাসী। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার ও হরিজন সংগঠনগুলো।