রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে রুমন হত্যা মামলায় আটক বাবার দাবি ‘আমি নির্দোষ ছেলে হত্যা কারি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ১২:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২৬১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় চাঞ্চল্যকর রুমন হত্যা মামলার মূল দুই আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— এএইচএম রেজাউল করিম ছানা এবং তার ছেলে নাসিরুল আহসান আকিব ।

গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ০৭ জুন ২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনীর পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে জমিজমা নিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এই ঝগড়া বিবাদের একপর্যায়ে রুমন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়ে পরবর্তীতে নিহত হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিল।

​গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করার পর র‍্যাবের সহযোগিতায় গাজীপুরের মাওনা থেকে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত এএইচএম রেজাউল করিম ছানা পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের মৃত ফয়জার রহমান ওরফে মধু মিয়ার ছেলে এবং নাসিরুল আহসান আকিব তার পুত্র।

​এদিকে গ্রেফতারের পর ক্যামেরার সামনে এসে এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত বাবা রেজাউল করিম ছানা। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নই। আমার ছেলে আকিব এই খুন করেছে। ও অপরাধ করেছে, ওর বিরুদ্ধে আপনারা আইনগত ব্যবস্থা নিন, কিন্তু আমি নির্দোষ।

​বাবার এমন আকস্মিক বক্তব্য এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা চলছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উভয়কেই নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম এবং গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা আপসহীন এবং এই মামলার আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

error: Content is protected !!

গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে রুমন হত্যা মামলায় আটক বাবার দাবি ‘আমি নির্দোষ ছেলে হত্যা কারি

প্রকাশের সময়: ১২:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় চাঞ্চল্যকর রুমন হত্যা মামলার মূল দুই আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— এএইচএম রেজাউল করিম ছানা এবং তার ছেলে নাসিরুল আহসান আকিব ।

গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ০৭ জুন ২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনীর পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে জমিজমা নিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এই ঝগড়া বিবাদের একপর্যায়ে রুমন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়ে পরবর্তীতে নিহত হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিল।

​গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করার পর র‍্যাবের সহযোগিতায় গাজীপুরের মাওনা থেকে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত এএইচএম রেজাউল করিম ছানা পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের মৃত ফয়জার রহমান ওরফে মধু মিয়ার ছেলে এবং নাসিরুল আহসান আকিব তার পুত্র।

​এদিকে গ্রেফতারের পর ক্যামেরার সামনে এসে এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত বাবা রেজাউল করিম ছানা। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নই। আমার ছেলে আকিব এই খুন করেছে। ও অপরাধ করেছে, ওর বিরুদ্ধে আপনারা আইনগত ব্যবস্থা নিন, কিন্তু আমি নির্দোষ।

​বাবার এমন আকস্মিক বক্তব্য এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা চলছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উভয়কেই নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম এবং গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা আপসহীন এবং এই মামলার আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।